চসিকের সাধারণ সভায় মেয়র

কাউন্সিলরদের দেয়া হবে বকেয়া গৃহকরের তালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বকেয়া গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যে এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নতুন প্রক্রিয়া শুরু করছে। নগরীর বকেয়া ট্যাক্স হোল্ডারদের কাছ থেকে গৃহকর আদায়ের জন্য সার্কেল অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রাজস্ব বিভাগ ইতিমধ্যে বকেয়া ট্যাক্স হোল্ডারদের একটি তালিকা প্রস’ত করেছে। সার্কেল অনুযায়ী ওয়ার্ড এলাকাভিত্তিক প্রস’তকৃত এ তালিকা সকল কাউন্সিলারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কাউন্সিলররা তালিকা অনুযায়ী বকেয়া ট্যাক্স হোল্ডারদের কাছ থেকে
গৃহকর আদায়ে চসিকের রাজস্ব বিভাগকে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি তারা হোল্ডিং মালিকদেরকে ট্যাক্স প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ নেবে।
গতকাল রোববার দুপুরে কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পরিষদের ৩০তম সাধারণ সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ সব কথা বলেন।
সভায় সেবার স্বার্থে পৌরকর আদায় গতিশীল করতে কাউন্সিলরদের সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেছেন, ‘উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থ পূর্বশর্ত। গত অর্থবছরে বন্দরসহ সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে মাত্র ১০৩ কোটি টাকার পৌরকর আদায় হয়েছে। তার বিপরীতে অনেক বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।’
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, ‘জাইকা দ্বিতীয় ধাপে ১৯ টি প্রকল্পের অধীনে ৪৩৪ কোটি টাকার সহযোগিতা দিচ্ছে। ফলে অনেক উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিককে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ম্যাচিং ফান্ড দিতে হয়। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। অথচ সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পৌরকর বাবদ মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা আদায় হয়। এ সংখ্যা বৃদ্ধি না পেলে নাগরিক সেবা প্রদান কষ্টকর হবে।’
আ জ ম নাছির উদ্দীন কাউন্সিলরদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘যারা কর খেলাপি; তাদেরকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা সেবা দেব; বিনিময়ে নাগরিকদের পৌরকর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
মেয়র আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বে নগরীর খাল থেকে মাটি ও আবর্জনা উত্তোলন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা গৃহীত মাস্টার প্ল্যানের ভিত্তিতে নগরীতে খালসমূহ থেকে মাটি ও আবর্জনা উত্তোলনের লক্ষ্যে প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। তারপরও নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে সিটি করপোরেশন ইকুইপমেন্ট, জনবল ও কারিগরি সহযোগিতায় মাটি উত্তোলন ও অপসারণ করছে।’
চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেনের উপস’াপনায় সভায় নির্বাচিত পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিভাগীয় প্রধানরা উপসি’ত ছিলেন।