মুরাদপুর-হাটহাজারী রুটে যাত্রী হয়রানি

গন্তব্য বিবিরহাট ভাড়া হাটহাজারীর!

কামরুন নাহার সানজিদা

সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে মুরাদপুর থেকে প্রতিদিন ৩ নাম্বার রুটের বাসে চড়েন হাসান মিয়া। কিন’ এসময় নিয়মিত এক বিপত্তিতে পড়তে হয় তাকে। বাসা বিবিরহাট হলেও ৫ টাকার পরিবর্তে এই রুটের বাসগুলো ভাড়া আদায় করে ৩০টাকা। যা এই রুটের সর্বশেষ স্টপেজ হাটহাজারীর ভাড়া।
তিন নাম্বার বাসের রুটগুলো হলো, নিউ মার্কেট থেকে লালদীঘি হয়ে নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে দিয়ে লাভলেইন মোড়-কাজীর দেউড়ি-আলমাস-ওয়াসা-জিইসি-মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন, এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তিন নাম্বার রুটের আরেকটি বাস কাজীর দেউড়ি এসে সোজা গোলপাহাড় মোড় দিয়ে প্রর্বতক থেকে সরাসরি মুরাদপুর-অক্সিজেন এরপর ফতেয়াবাদ পর্যন্ত। শুধুমাত্র দ্রুতযান বাসটি নিউমার্কেট থেকে সরাসরি হাটহাজারী পর্যন্ত যায়।
এরমধ্যে তিন নাম্বার রুটের বাসগুলো নিউমার্কেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বা ফতেয়াবাদ পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা। পথিমধ্যে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া আরো কম। এছাড়া, নিউমার্কেট থেকে হাটহাজারীর দ্রুতযানে রেট ভাড়া ৩০ টাকা।
সম্প্রতি মুরাদপুর থেকে হাটহাজারীর যাত্রী নেয়া শুরু করেছে তিন নাম্বার রুটের বাসগুলো। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই দেখা যায় এ চিত্র। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এই রুটের বাস নিউমার্কেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হলেও শুধুমাত্র মুরাদপুর পর্যন্ত যাত্রী বহন করা হয়। এরপর মুরাদপুরে এসে বাসগুলো থেমে যায়।
মুরাদপুর থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী দাঁড়িয়ে ‘হাটহাজারী ডাইরেক্ট’ ডেকে যাত্রী হাঁকায় এসব বাস। অর্থাৎ গন্তব্য যদি আমানবাজার, বালুচরা, অক্সিজেন এমনকি বিবিরহাটও হয়, ভাড়া গুনতে হবে ৩০ টাকা ভাড়া। যেখানে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেনের রেট ভাড়া ৭ টাকা এবং বিবিরহাটের ভাড়া ৫টাকা।
মুরাদপুর থেকে গাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় ভাড়া যেখানে কোনোমতেই ১৫ টাকার উপরে নয়, সেখানে এক ধরনের সিন্ডিকেট করে বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে ১৬ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা।
তিন নাম্বার রুটের বাসগুলোর এই ধরনের আচরণে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, টিউশন শেষ করে ষোলশহর থেকে রাত সাড়ে আটটার ট্রেনটা প্রতিদিনই মিস করি। তাই বাধ্য হয়ে বাসে ক্যাম্পাস ফিরতে হয়। কিন’ বেশ কয়েক মাস ধরে এই রুটের বাসগুলোর কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছি। মুরাদপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইট পর্যন্ত ভাড়া ১৪ টাকা। অথচ প্রতিদিন বাসগুলো হাটহাজারী পর্যন্ত সরাসরি নিচ্ছে। আমি যেখানেই নামবো, ভাড়া নাকি ৩০টাকা। এমন তো নয় যে, বাসের সংকট। বেশ কয়েকটা বাস লাইন ধরে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। কিন’ এরা হাটহাজারী পর্যন্তই ভাড়া নেবে। এভাবে কয়েকদিন যাতায়াত করা যায়। তাই বলে প্রতিদিন তো আর এত ভাড়া দেয়া সম্ভব না।
মিজান এসব কথা বলার সময় পাশ থেকে কথা বলে ওঠেন চাকরিজীবী মাসুদ হাসান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই, আপনি তো বিশ্ববিদ্যালয় যাবেন। আমি যাবো আতুরার ডিপো। সেখানে নামলেও একই ভাড়া দিতে হয়। অক্সিজেন পর্যন্ত টেম্পুগলোও সন্ধ্যার পর থেকে ডাবল ভাড়া নেয়া শুরু করেছে। বাস চালকের সহকারীদের সাথে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা করলে, বাস থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বলে, গেলে যাবেন, না গেলে নেমে যাবেন।’
এই রুটের বাসগুলোর নতুন এই পদ্ধতিতে বিস্মিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষ। বিআরটিএ’র উপ পরিচালক শহিদ উল্লাহ সুপ্রভাতকে জানান, আমরা কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। কিন’ দিনের বেলায় করি বলে এ বিষয়ে কিছু শুনিনি আমরা। তবে যেকোনো বাসের রুটে যে স’ান পর্যন্ত পারমিট আছে, কেবল সেই স’ান পর্যন্ত তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। আর এক্ষেত্রে ভাড়াও বাড়তি নেয়া অবৈধ। কোনো যাত্রী যদি এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর বা সহকারী পরিচালক, বিআরটিএ অথবা সভাপতি, জেলা আরসিসি বরাবর অভিযোগ করে, তাহলে দ্রুত ব্যবস’া নেয়া হবে। তবে এখন যেহেতু আমরা জেনেছি, বিষয়টি আমরা দেখছি।
নগরীতে গণপরিবহন সংক্রান্ত বিষয় তদারকির দায়িত্ব মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে। ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদুল হাসান বলেন, নির্দিষ্ট রুট ছাড়া যাত্রী পরিবহন বেআইনি। নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করাও বেআইনি। এই রুটের বাসগুলোর এমন অবৈধ চলাচল ও কর্মকাণ্ড বিষয়ে সিএমপি থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে। নির্দিষ্ট ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।