ইরান চুক্তি আপাতত বহাল থাকছে

চুক্তিতে চুল পরিমাণ রদবদল না করার ঘোষণা ইরানের

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি আপাতত বহাল রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এটিই শেষবার বলে তিনি সতর্ক করেছেন। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিটি পরিবর্তন না হলে ট্রাম্প এটি বাতিল করবেন। কিন’ তার আগে তিনি মাত্র আর একবারের জন্যই এটি অনুমোদন করবেন। খবর বিডিনিউজ।
এতে করে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকেও ছাড় পাবে। নিষেধাজ্ঞার যে ছাড়পত্রে ট্রাম্প সই করবেন তাতে ইরানে আরো ১২০ দিনের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স’গিত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প চান মার্কিন কংগ্রেস এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ১২০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি আরো পাকাপোক্ত করুক। তা না হলে শেষ পর্যন্ত এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাবে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর স’ায়ীভাবে কড়াকড়ি আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সঙ্গে এ পাকা চুক্তি চাইছে হোয়াইট হাউজ। বর্তমান চুক্তিটিতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, যা শেষ হবে ২০২৫ সালে। ২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর ছয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এর আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হবে- এ শর্তেই ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অনেকাংশে কমাতে রাজি হয়। ফলে ইরানের ওপর দশকের পর দশক ধরে আরোপ থাকা পরমাণু-সংশ্লিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স’গিত করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতি ১২০ দিন পরপর ওই নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র সই করতে বাধ্য। কিন’ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চুক্তিটির সমালোচনা করে আসছেন। তবে ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত দিচ্ছে। ট্রাম্পকে চুক্তিটি বাতিল না করার আহ্বান জানিয়ে দেশগুলো বলেছে, ওই চুক্তির কারণেই বিশ্ব নিরাপদ আছে। ইরানের ওপর সন্ত্রাস, মানবাধিকার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মত ক্ষেত্রগুলোতে আলাদাভাবে এখনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকটিতেও নজর দেওয়া হোক সেটিও চান ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ইরান বলেছে, ট্রাম্পের দাবি মেনে চুক্তিতে চুল পরিমাণ রদবদল করবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস’া ইরনার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস’াগুলো জানায়, ইরান সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে চুক্তির চুল পররিমাণ রদবদল করা হবে না। চুক্তিতে ইরান যেসব অঙ্গীকার করেছে, এর বাইরে সে আর কিছুই করবে না। আগের দিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানসহ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব দেশকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, চুক্তিতে অনেক ‘ভয়ঙ্কর ফাঁকফোঁকর’ রয়ে গেছে। এগুলোকে শিগগিরই দূর করার জন্য চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনতে হবে। নইলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে। ট্রাম্পের হুশিয়ারিমাখা ঘোষণার বিরুদ্ধে শনিবার এই প্রতিক্রিয়া জানাল তেহরান। প্রক্রিয়ায় তারা আরও বলেছে, ট্রাম্প চুক্তিটির সঙ্গে অন্যসব ইস্যুকে জড়ানোর যে পাঁয়তারা করছেন, সেসবও ইরান মানবে না।
উল্লেখ্য ট্রাম্প শুক্রবার ইরান ছাড়াও চীন ও মালয়েশিয়ার মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এদের মধ্যে ইরানের প্রধান বিচারপতি সাদেক আমোলি লারিজানিও রয়েছেন।