৮ কিশোরীর পলায়ন

সেফ হোমে দায়িত্বরতদের গাফিলতির প্রমাণ তদন্তে

সুপ্রভাত ডেস্ক

চট্টগ্রামে সমাজসেবা অধিপ্তরের সেফ হোম থেকে আট কিশোরীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও কর্মীদের গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে তদন্তে।
তাছাড়া ওই সেফ হোমে পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ওইদিন টহলে ছিলেন না বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। খবর বিডিনিউজ।
তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক নাজনীন কাউসার গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনটি রাতেই অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেফ হোম থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে আট কিশোরী পালিয়ে যায়। পরদিন এক কিশোরীর সন্ধান পাওয়া গেলেও অন্যদের হদিস মেলেনি।
ঘটনা তদন্তে নাজনীন কাউসারকে প্রধান করে থেকে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক বন্দনা দাশ ও উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম।
নাজনীন কাউসার জানান, সেফ হোমে মোট ৫৬ জন কিশোরী ছিল। তাদের মধ্যে আটজন হোমের পুরনো রান্না ঘরের পেছনের জানালার গ্রিল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পরদিন একজনকে উদ্ধার করা হলেও অন্যরা পলাতক।
তিনি বলেন, ‘সেফ হোমের কম্পাউন্ডে একটি পুলিশ ক্যাম্প আছে। আর ভবনে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্যরা পাহারায় থাকেন।
‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রাথমিকভাবে আনসার ও দায়িত্বরত কাজের লোকদের গাফিলতি পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘রাতে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তাদের একজন রাত ১০ থেকে ২টা পর্যন্ত ও আরেকজন রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
‘কিন্তু রাত ১০টায় যিনি দায়িত্বে এসেছিলেন তিনি ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করে ঘুমিয়ে ছিলেন। আর রাত ২টায় যার দায়িত্ব পালনের কথা তিনি সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে এসে দুই মিনিট অবস্থান করে চলে গেছেন।’
একজন আনসার সদস্য রাতে কাজে না এলেও অপরজন তার সাথে কোনো যোগযোগ করেনি বলেও প্রতিবেদন উঠে এসেছে। এছাড়া হোমের দুই নারী কর্মীও দায়িত্ব পালন না করে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সেফ হোমে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া কিশোরীরা কোনো দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছে কিনা তা পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করাতে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান নাজনীন।