মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের সমাপনী দিনে চবি উপাচার্য

ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না

বিজ্ঞপ্তি
ftgu

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির আবারও ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী, খুনি, দুর্নীতিবাজ ও ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় ইতিহাসের সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। ইতিহাস সত্য, চিরভাস্বর। এই ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেটাই প্রমাণ করেছে।
গতকাল ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের সমাপনী দিনে বিজয় মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্য আলোচকের ভাষণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালির জন্য নয়, এ ভাষণের বার্তা পৃথিবীর সব নির্যাতিত, নিপীড়িত, মুক্তিকামী মানুষের জন্য। এই ভাষণ শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, বিশ্বসম্পদ। তিনি আরো বলেন, এ স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধু, তাঁর সংগ্রাম, আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণ কেউ কোনদিন বাঙালির হৃদয় থেকে মুছতে পারবে না।
বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগ্রাম শিক্ষবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবু জাফর একাত্তরে বাঙালি জাতির উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তার দোসরদের নৃশংস গণহত্যা নির্যাতনের ভয়াবহতা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও পাকিস্তানি বাহিনী সেই নৃশংস গণহতা ও নির্যাতনকে অস্বীকার করতে তৎপর রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শেখ মাহমুদ ইছহাকের সভাপতিত্বে সমাপনী দিনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদযাপন পরিষদের মহাসচিব দিদারুল আলম দিদার।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রধান সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক নেতা শফি বাঙালী, নগর আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইকবাল চৌধুরী, পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার কামাল উদ্দিন, নগর শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আবু সুফিয়ান, যুবলীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম শিমুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইয়াছির আরাফাত।
এতে উপসি’ত ছিলেন যুবলীগ নেতা শাহেদ হোসেন টিটু, মিসকাত কবির, পলাশ সূত্রধর।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য শাহেদ মিজান ও নগর ছাত্রলীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ইমরান আলী মাসুদ, রাশেদুল আলম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে বেতার ও টেলিভিশনের নব প্রজন্মের শিল্পী পাপড়ী ভট্টাচার্য্য, ইলমা বিনতে বখতিয়ার, সুমা ইসলাম রাইসা, তামরীন হোসেন তমা, রেহানা আক্তার, রেজোওয়ান বাবলু। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন দ্যা স্কুল অব ফোক ড্যান্স। নৃত্য পরিচালনায় তরুণ চক্রবর্ত্তী।
বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন তারুণ্যের উচছাস আবৃত্তির দল। পরিচালনায় বাচিক শিল্পী মুজাহিদুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ।