মাদকাসক্তি প্রতিরোধে ধর্মীয় অনুশাসন

এম আনোয়ার হোসেন

রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে ধর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা রাষ্ট্রের উৎপত্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্যও বটে। গোটা বিশ্বে বিভিন্ন গোত্র, বর্ণ এবং বিভিন্ন চরিত্রে মানব সমাজ ও বসতি বিদ্যমান। তাবত বিশ্বের এ সমস্ত সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মব্যবস্থাও বিদ্যমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্ম রয়েছে।
এ সমস্ত ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যাও রাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন অনুপাতে দেখা যায়। কোন দেশে কোন বিশেষ ধর্মের অনুসারী সংখ্যাগরিষ্ঠ, আবার কোন কোন দেশে সংখ্যালঘিষ্ট হিসেবে অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
ধর্মের মূল কথা হলো-একটি জীবন ব্যবস্থার নাম, যা অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে শুধুমাত্র মানব সমাজে বিদ্যমান। যে জন যে ধর্মের অনুসারী সে জন সে ধর্মের জীবন ব্যবস্থার উপর স্বীয় জীবন অতিবাহিত করে। তাতে রয়েছে স্বীয় ধর্মব্যবস্থাভিত্তিক মানুষের ওপর দায়িত্ব, কর্তব্য, সৃষ্টির রহস্য, ইহজগত, পরজগত,স্বর্গ-নরক। এ সমস্ত বিষয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার উপর মানুষের রয়েছে অগাধ বিশ্বাস।
এ বিশ্বাস ও নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসনের তাগিদে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে একটি রীতি-নীতির ভেতর মানুষের চরিত্র কিংবা জীবন শুরু হয়। তাতে পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং শৃঙ্খলা বিরাজমান হয়।
বিশ্বের বিরাজমান ধর্মীয় ব্যবস্থায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং অধিকার সুনিদিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মানুষ দায়িত্ব সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠে।
এতে ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় এবং একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ, সহমর্মিতা, সহনশীলসহ ভাল আচরণে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। যে কোন ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশীলন অপর ধর্মের প্রতি সম্মানবোধ জাগ্রত করে।
ধর্মীয় আচার ব্যবহার যথাযথ প্রতিপালনের মাধ্যম মানুষের মধ্যে একটা শৃংখলাবোধ, সুন্দর আচার ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। যে কারণে মানুষ মদ-গাঁজা, জুয়া, ইয়াবার মত মরণ নেশা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অন্যায়, অবৈধ, অবিচার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যস্থাপনার দিকে ধাবিত হতে পারে না।
যারা ধর্মকে সত্যিকার অর্থে নিজের জীবনে একনিষ্ঠভাবে পালনে অভ্যস্ত করে নিয়েছে তাদের পক্ষে উপরোক্ত গর্হিত কর্মকাণ্ড সম্ভবপর নয় এবং সমর্থনযোগ্যও হতে পারে না।
ফলে মানুষ একটা রীতি-নীতির ফ্রেমে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম পরিলক্ষিত হয়।
এভাবে স্বীয় ধর্মীয় রীতি-নীতির ফলে মানুষকে মার্জিত ও রুচিশীল করে তুলে। পিতা-মাতার যথাযথ শিক্ষা এবং শৈশবকাল হতে ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে ধর্মের প্রতি অনুরাগী করে তুলে।
স্ব স্ব ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে শৃংখলাবোধ,দায়িত্ববোধ, সুন্দর ও সঠিক রীতি-নীতি প্রতিপালনে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজমান হয়। যে ধর্মই হউক, সে ধর্মীয় ব্যবস্থার অনুসারীদের অন্যায়-অবিচার কিংবা পাপ-পঙ্কিলে সায় দেয় না। বরং এ সব হতে মানুষকে বিরত রাখার আহবান প্রতিনিয়ত।
যেমন বৌদ্ধ ধর্মে জীব হত্যা মহাপাপ। খ্রীষ্টান ধর্মে সেবাই মহৎ কাজ। ইসলাম ধর্ম কোন পাপকে সায় দেয় না এবং ধর্মে সুদকে হারাম করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি-নীতি কিংবা অনুশাসন মেনে চলার মধ্যে একজন মানুষ সত্য, সুন্দর কর্মে কিংবা সুন্দর পথে পরিচালিত হয়। ফলে মানুষ মার্জিত ও রুচিশীল আচরণ ও জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাতে সমাজ থেকে সমস্ত প্রকার গর্হিত কাজ দূরীভূত হয়।

লেখক : কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক