সাকিবের সিদ্ধান্তকে সম্মান মুশফিকের

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক
Mushfiqur-Rahim---Bangla

আরও বেশি উন্নতি করতে ছয় মাসের জন্য টেস্ট থেকে বিরতি চেয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুই টেস্টে বিশ্রাম পেয়েছেন তিনি। আর এই ব্যাপারটিকে দলপতি হিসেবে মুশফিকুর রহিম কিভাবে দেখছেন? তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে দেশের ক্রিকেট পাড়ায়। খবর বাংলানিউজ’র।
সাদা পোশাকে ৫১ ম্যাচ খেলা সাকিব ব্যাট হাতে করেছেন ৩ হাজার ৫৯৪ রান আর বল হাতে নিয়েছেন ১৮৮ উইকেট। দেশের তথা সমগ্র বিশ্বের সেরা এই পারফরমারকে ছাড়াই এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দিতে চলেছে টাইগাররা।
দক্ষিণ আফ্রিকার গত সফরে (২০০৮) ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব। দুই ম্যাচে ১১ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছিলেন ১১৮ রান। দেশের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে বিদেশি গণমাধ্যমেও সাকিব ইস্যুতে অনেকে অনেক কথা বলছেন।
মুশফিক জানান, ‘একটি দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি না। কিন্তু, সাকিবের ক্লান্তিজনিত কারণে বিশ্রাম চেয়ে আবেদনকে আমি সম্মান করি। এটা সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একই সাথে জানাতে চাই যদি সাকিব ছুটি না নিয়ে ইনজুরিতে থাকতো, তাহলেও আমাদের সাকিবকে ছাড়াই যেতে হতো।’
বিশ্রাম নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যদি তরতাজা সাকিব ফিরে আসেন, সেটাই ভালো। তবে, সাকিব বোর্ডের কাছে ছয় মাসের বিরতির আবেদন করলেও, বোর্ড তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দুই টেস্টে ছুটি দিয়েছে। সাকিব চাইলে বোর্ড তাকে দ্বিতীয় টেস্টে খেলাতে রাজি আছে।
কথা উঠছে, সাকিবকে ছাড়া বাংলাদেশের যেকোনো ফরমেটে মাঠে নামা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু, বিশ্বের বড় দেশগুলোর দিকে তাকালে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্তত বিলাসিতা ভাবার অবকাশ নেই। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন, ডি ভিলিয়ার্স, ওয়েস্ট ইনিডজের ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইনদের মতো গ্রেট ক্রিকেটাররা নিজেদের ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার জন্যই বেছে বেছে ক্রিকেট খেলেছেন, এখনও খেলছেন।
মুশফিক আরও জানান, ‘ইনজুরি যেমন আমাদের জীবনের একটি অংশ, তেমনি সাকিবের বিশ্রামকেও আমাদের খেলার একটি অংশ হিসেবে মানতে হবে। সাথে এটাও জানিয়ে রাখি, দলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভাই ফিরেছেন। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। কারণ, তিনি আমাদের জন্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। তারপরও আমি দলপতি হিসেবে বলতে চাই, সাকিব সাকিবই। আর আমরা তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খুবই মিস করবো।’
তিন সংস্করণেই বাংলাদেশ দলের মূল ভরসা সাকিব। দেশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাকিবকে ছুটে বেড়াতে হয় বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক লিগগুলোর দৃষ্টি থাকে সাকিবের দিকে। সে হিসেবে সাকিবের ছুটি চাওয়াটা অহেতুক নয়। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার খ্যাতিটা তো আর এমনি এমনিতেই আসেনি।