দুই শিক্ষক আটক

দীঘিনালায় মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীকে বলাৎকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা
Dighinala-news-23-08-2017--

দীঘিনালায় এক শিশুকে বলাৎকার এবং আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ধর্মীয় শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক শিক্ষকরা উপজেলার ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক, হাফেজ মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৬) এবং নুরানী বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. নোমান (২২)। তাদের বাড়ি উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের তিন নম্বর কলোনি এলাকায়। এ ঘটনায় শিশুর পিতা মো. রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মারধর ও বলৎকারের অভিযোগে দীঘিনালা থানা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা এজাহার ও বাদি সূত্রে জানা যায়, শিশুটি ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার ছাত্র। তার বয়স দশ বছর। সে মাদ্রাসায় অবস্থান করেই হেফজ বিভাগে পড়াশুনা করতো। গত রমজান মাসে রাতের বেলা হাফেজ আল নোমানের শয়নকক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রকে দিয়ে হাত, পা এবং শরীর মেসেজ করাতো। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাতে মারধর করতো।
তবে বিষয়টি ওই ছাত্রের নানীকে জানানোর পর, ছাত্রের নানী মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে জানান। পরে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে ওই শিক্ষক আরবী পড়া ভুল উচ্চারণের অজুহাতে ওই শিশুর উপর শারীরিক নির্যাতন বাড়িয়ে দেন। বিষয়টি আর কাউকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে ফরহাদের মা জরিনা বেগম জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে আসছে। শরীর মেসেজের নাম করে বার বার বলৎকার করে আসছে। বড় হুজুরকে জানানোর পর, কাউকে না বলার জন্যে শারীরিক নির্যাতন বেড়ে যায়। নির্যাতনের কারণে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পরেও আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠেনি।
এ ব্যাপারে দীঘিনালা থানার এসআই মো. ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার আটক দুই শিক্ষকের নামে মারধর, বলাৎকারের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামি হাজতে রয়েছে।