চট্টগ্রাম বন্দর

কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েই চলছে

‘অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন জেটির বিকল্প নেই’

ভূঁইয়া নজরুল

বেড়েই চলছে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং। শুধু জুন ছাড়া বিগত তিন বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনা বিবেচনায় গত ৭ মাসের প্রায় সবগুলোতেই বাড়তি ছিল কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ। ইকুয়েপমেন্ট সমস্যার পরও শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে হ্যান্ডেলিং। শুধু কনটেইনার নয়, বেড়েছে জাহাজের সংখ্যাও। তবে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য নতুন জেটি বাড়ানোর বিকল্প নেই।
জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে বন্দরে আসা ৯২টি জাহাজে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩১ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা হলেও ২০১৬ সালে ১০৮টি জাহাজে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩টি, অপরদিকে চলতি বছরের একই মাসে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয় ২ লাখ ১৫ হাজার ৭১৯টি। বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং দিয়ে বছরের শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৮, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৫ ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪২১ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে। ২০১৫ সালের মার্চে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৮, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ ও চলতি বছরের মার্চে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৮ কনটেইনার, ২০১৫ সালের এপ্রিলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫০ কনটেইনার, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৪ ও চলতি বছরের এপ্রিলে ২ লাখ ৮ হাজার ১৪৩ কনটেইনার; ২০১৫ সালের মে মাসে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৪, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫৮ ও চলতি বছরের একই মাসে ২ লাখ ৪৮১ কনটেইনার; ২০১৫ সালের জুন মাসে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৮, ২০১৬ সালের একই মাসে ১ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৭ এবং চলতি বছরের একই মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৩১ কনটেইনার এবং ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ কনটেইনার, ২০১৬ সালের একই মাসে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫১ ও চলতি বছরের জুলাইতে ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর। শুধু কনটেইনার হ্যান্ডেলিং নয়, জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হারে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর গত বছর ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে, এর আগে ২০১৫ সালে ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে। গত বছর গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের সংখ্যার পাশাপাশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বাড়লেও বাড়েনি জাহাজ ভেড়ানোর জেটি সুবিধা। বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিতে গড়ে ১১টি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একটি জাহাজ গড়ে তিনদিন করে বন্দরের জেটিতে অবস্থান করে বলে বহির্নোঙ্গরে বাড়তে থাকে জাহাজের সারি। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮টি জাহাজ বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষা করতে থাকে জেটিতে প্রবেশের জন্য। এতে জাহাজের গড় অবস্থান সময় বাড়ছে জানিয়ে চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক ও বন্দর বিষয়ক প্রতিনিধি মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘সময়ের সাথে চাহিদার কারণে বন্দরে জাহাজের পরিমাণ যেমন বাড়বে তেমনিভাবে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সংখ্যাও বাড়বে। কিন্তু এসব হ্যান্ডেলিং কতো দ্রুত করা যায় সেটাই দেখার বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জেটির ভেতরে একটি জাহাজ থেকে কনটেইনার খালি করে তা আবারো পরিপূর্ণ করে জেটি ছাড়তে চার দিন সময় লেগে যায়। কিন্তু সমপরিমাণের কনটেইনারবাহী জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ৩১ ঘণ্টা ও কলম্বো বন্দরে ৪৮ ঘণ্টায় কাজ শেষ করে। চট্টগ্রাম বন্দরকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।’
জাহাজের গড় অবস্থান কমিয়ে আনতে হলে বন্দরকে জেটি বাড়াতে হবে জানিয়ে এমএমসি শিপিং লাইনের সিনিয়র ব্যবস্থাপক আজমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘জেটি বাড়ানোর পাশাপাশি ইয়ার্ডে কনটেইনারের ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। আমাদের আমদানি-রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরমুখী জাহাজের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। আরো জাহাজ আনার অনুমোদন চাইলেও পাচ্ছি না।’
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সমস্যার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল সম্প্রতি সুপ্রভাতকে বলেন, আমরা নতুন জেটি নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। আগামী মাসেই পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া ড্রাইডক ও সাইলো জেটিতেও জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ড্রাইডক ও সাইলো জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হলেও সেখানে কনটেইনারবাহী জাহাজ ভেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কনটেইনারবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে দ্রুত ইয়ার্ডে রাখা ও ইয়ার্ড থেকে জাহাজে তোলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দরকার। সেজন্য দ্রুত ইয়ার্ড নির্মাণ প্রয়োজন।’
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে এনসিটি নির্মাণের পর গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো জেটি নির্মিত হয়নি।