আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ভবন

৭৩ চেম্বার বরাদ্দে বাণিজ্য সুরাহা হয়নি ১ বছরেও

সরকার হাবীব

২০১৭ সালের শেষ দিকে আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ভবনের ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দে বাণিজ্যের যে ঘটনা আদালত পাড়ায় ঘটেছিল এখনো পর্যন্ত সেটির কোনো সুরাহা হয়নি। অবৈধভাবে এবং কোনো ধরনের উম্মুক্ত টেন্ডার ছাড়া বরাদ্দ দেওয়া এসব চেম্বার বা কক্ষ এখনো পর্যন্ত দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারও করা হয়নি। বরং আইনজীবী সমিতির সাথে ৭৩ চেম্বার মালিকরা এক ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ক্রয় করা এসব চেম্বারে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ভবনটির দায়িত্বে থাকা এবং আইনজীবীদের অভিভাবক জেলা আইনজীবী সমিতির কর্তারা বলছেন, ৭৩টি চেম্বার যাদের দেওয়া হয়েছে সেগুলো তাদের কাছেই থাকছে। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে উপযুক্ত অর্থ।
এদিকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চেম্বার পাননি অনেক চেম্বারপ্রত্যাশী আইনজীবী। কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বা চেম্বারগুলো অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে পুনরায় উম্মুক্ত টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চেম্বার পাওয়া থেকে বঞ্চিত অনেকে। তারা বলছেন, চেম্বারগুলো অবৈধভাবে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবেই বরাদ্দ দেওয়া হয়। আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র না মেনে সে সময় এমনটা করা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ছিল না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সে সময় আদালত পাড়ায় চেম্বার বাণিজ্যের এমন ঘটনা ঘটেছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, আদালত পাড়ায় আইনজীবীদের জন্য নির্মিত ভবনের চেম্বারগুলো ওপেন বা উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে চেম্বার প্রত্যাশীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন’ গত ২০১৭-১৮ সালের কমিটি শাপলা ভবনের ৭৩টি চেম্বার অবৈধভাবে এবং কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেয় বলে অভিযোগ।
অবৈধভাবে চেম্বার ক্রয় করা এক আইনজীবী বলেন, উম্মুক্ত টেন্ডারে গিয়ে চেম্বার না পাওয়ায় তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে সমিতি থেকে চেম্বার ক্রয় করেন। তার মতো অনেকে এ কাজটি করেছেন। তিনি আরও বলেন, এখানে স্বচ্ছতার বিষয়টি ছিল না, এটা বলা যায়। তবে এখন সমিতির সাথে ৭৩ চেম্বার মালিকের সাথে চুক্তি হয়েছে এবং সে চুক্তি অনুযায়ী ৭৩ চেম্বার মালিকরা অতিরিক্ত টাকা সমিতিকে পরিশোধ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্চুক এক চেম্বার প্রত্যাশী বলেন, চেম্বার পেতে হলে উম্মুক্ত টেন্ডারে যেতে হবে, সেটাই নিয়ম। কিন’ নতুন ভবন শাপলাতে স্বচ্ছতা ছাড়াই ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমিতির কিছু নেতা এবং কিছু চেম্বার প্রত্যাশীর যোগসাজশে আদালত পাড়ায় চেম্বার বাণিজ্যের এ ঘটনা ঘটেছে। আইনজীবী সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দের উচিত হবে অবৈধদের কাছ থেকে এসব চেম্বার উদ্ধার করে উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে সাধারণ চেম্বার প্রত্যাশীদের কাছে সেগুলো হস্তান্তরের ব্যবস’া করা।
সমিতির ২০১৭-২০১৮ সালের কার্যকরী কমিটির সভাপতি এবং বিজ্ঞ আইনজীবী রতন কুমার রায় বলেন, চেম্বার বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছিল, তা সত্য। কিন’ এখন তা সমাধান হয়ে গেছে। ৭৩ টি চেম্বার যাদের কাছে রয়েছে তাদের সাথে ২০১৮-২০১৯ সালের কমিটির চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুয়ায়ী ৭৩ টি চেম্বার যাদের দেওয়া হয়েছে সেগুলো তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না এবং চুক্তি অনুযায়ী তাদেরকে প্রতি স্কয়ার ফিট জায়গা ৪ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সদ্য নির্বাচিত সেক্রেটারি আয়ুব খান বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি সেক্রেটারি পদে জয়লাভ করেন। এখন সমিতির নানান সমস্যা ও আইনজীবীদের অধিকার নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায়, সেটা দেখছেন। সেই সাথে বার ও বেঞ্চের মধ্যে কিভাবে সমন্বয় সাধন করা যায়, সেটি নিয়েও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, চেম্বার বাণিজ্যের বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না। বিষয়টি এখন কোন্ পর্যায়ে রয়েছে সেই বিষয়টিও তিনি অবগত নন।