চমেক হাসপাতাল

৬ মাসেই অকেজো কোটি টাকার মেমোগ্রাফি মেশিন

সালাহ উদ্দিন সায়েম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৬ মাস আগে নারীদের স্তনে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত মেমোগ্রাফি নামক থ্রি ডি ডিজিটাল মেশিনটি চালু করা হয়। ১ কোটি ৬৬ লাখ ১ হাজার ৯৬০ টাকা ব্যয়ে ইতালি থেকে আমদানি করা এ মেশিনটি ৬ মাসের মধ্যে অকেজো হয়ে গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের চার নম্বর কক্ষে মেশিনটি এখন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেমোগ্রাফি মেশিনটি গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে হঠাৎ অকেজো হয়ে পড়ে। মেশিনটির ফিল্ম ক্যাসেট নষ্ট হয়ে গেছে। এটি মেরামতের জন্য রেডিওলজি বিভাগ থেকে হাসপাতালের পরিচালককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মেশিনটি এখনো মেরামত হয়নি। এতে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।
গতকাল রোববার সকালে চমেক হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, মেমোগ্রাফির রুমে তালা ঝুলছে।
কাপ্তাই থেকে শামসুন নাহার নামের একজন মহিলা পরীক্ষা করতে এসে ফিরে যাচ্ছিলেন। অ্যাকাউন্ট শাখায় পরীক্ষার ফি দিতে গেলে তাকে মেমোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। অনেক দূর থেকে এসে স্বল্প মূল্যে পরীক্ষা করতে না পেরে তিনি তখন সেখানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
শামসুন নাহার সুপ্রভাতকে বলেন, ‘এখানে পরীক্ষার ফি কম, তাই এতো দূর থেকে কষ্ট করে এসেছি। কিন’ মেশিন নাকি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই পরীক্ষা করতে পারলাম না। মেশিনটা কবে ঠিক হবে তারা সেটাও বলেনি।’
মাত্র ৬ মাসের মধ্যে মেমোগ্রাফি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুভাস মজুমদার। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘জাপানের হিটাচি ব্র্যান্ডের এই মেশিনটি নিম্ম মানের। তাই কয়েক মাসের মধ্যে এর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমি হাসপাতালের পরিচালককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।’
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসিন উদ্দিন আহমদ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মেমোগ্রাফি মেশিনটির একটা পার্টস নষ্ট হয়ে গেছে। মেশিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এসে দেখে যাবে। মেশিনটি সচল হওয়া নির্ভর করছে তাদের ওপর। তারা কতদিনে এটি মেরামত করতে পারবে তা জানি না।’
তবে চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম গতকাল সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন, মেমোগ্রাফি মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিউ টেক জিটি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ারদের আগামীকাল (আজ) চমেক হাসপাতালে আসার কথা রয়েছে।
গত বছরের ৬ আগস্ট চমেক হাসপাতালে মেমোগ্রাফি মেশিনের সেবা চালু হয়। এ উপলক্ষে সেদিন ঘটা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুভাস মজুমদার সুপ্রভাতকে জানান, মেমোগ্রাফি মেশিনে গত ৬ মাসে অন্তত ১০০ জন রোগীর পরীক্ষা হয়েছে। মেশিনটি সচল থাকাকালে প্রতিদিন ২-১ জন রোগীর পরীক্ষা হতো বলে জানান তিনি।
রেডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি স্তনের মেমোগ্রাফ টেস্টে ৪০০ টাকা এবং দুটি স্তনের টেস্টে ফি লাগে ৮০০ টাকা। কিন’ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ফি গুনতে হয় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।