৬ টি আসনে বিএনপির হেভিওয়েটরা টেনশনে

সালাহ উদ্দিন সায়েম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ৬টি আসনে বাছাইয়ে ছিঁটকে পড়া বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা টেনশনে ভুগছেন। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে মনোনয়ন ফিরে পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যেসব হেভিওয়েট প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন তারা হলেন-চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে এম মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনে আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোসত্মাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে শামসুল আলম, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে নুরম্নল আমিন চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে সামির কাদের চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন পর্যনত্ম নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরম্ন হবে। এতে বাদ পড়া এসব প্রার্থী মনোনয়ন ফিরে পাবেন কিনা সেটার সিদ্ধানত্ম হবে শুনানিতে। তবে নির্বাচন কমিশনের আপিলই শেষ নয়। মনোনয়ন ফিরে পেতে বাদ পড়া প্রার্থীরা হাইকোর্টের আপিল বিভাগেও যেতে পারবেন।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে আজ চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থীদের আপিল শুনানি হবে। শুনানিতে এ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোসত্মাফা কামাল পাশার মনোনয়ন ফিরে পেতে শুনানিতে লড়াই করবেন তার আইনজীবীরা।
মামলা ও ঋণখেলাপির বিষয়টি মাথায় রেখে বিএনপি এবার একটি আসনে একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অবশ্য এরমধ্যে মূল প্রার্থী নির্ধারিত করে রেখেছে তারা। নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ে চট্টগ্রামের ছয়টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়া পাঁচটিতে বিএনপির মূল প্রার্থীরাই বাদ পড়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে ধানের শীষের মূল প্রার্থী। এ আসনে তাঁর বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান ও নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উলস্নাহকে। বাছাইয়ে মোরশেদ খানের সাথে এরশাদ উলস্নাহও বাদ পড়েছেন। এখন বিকল্প হিসেবে আছেন কেবল আবু সুফিয়ান। মোরশেদ খান ও এরশাদ উলস্নাহ সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আপিলে মনোনয়ন ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়ে দুজনই টেনশনে আছেন। তবে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও স্নাতকোত্তর শিড়্গাগত যোগ্যতার সনদপত্র জমা না দেওয়ার কারণে বাদ পড়া মোরশেদ খান আপিলে মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাঁর ঘনিষ্ট একটি সূত্র সুপ্রভাতকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া মোরশেদ খানের নয়, তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্যাসিফিক (বিডি) টেলিকম লিমিটেডের। এর দায় তাঁর কাঁধে বর্তাবে না। আর স্নাতকোত্তর শিড়্গাগত যোগ্যতার সনদের অন্য ডকুমেন্ট তাঁর রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে না হলেও হাইকোর্টের আপিলে মোরশেদ খান মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের প্রার্থী নুরম্নল আমিন চেয়ারম্যানেরও। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা না হওয়ায় বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন তিনি।
নুরম্নল আমিন গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বাছাইয়ে ঠুনকো বিষয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী আপিল শুনানিতে মনোনয়ন ফিরে পাবো। যদি নির্বাচন কমিশনে না পায়, তাহলে হাইকোর্টের দ্বারস’ হবো।’
তবে বাকি চার আসনে বাদ পড়া বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন ফিরে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ঋণ ও বিলখেলাপির কারণে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী শামসুল আলম, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থী মোসত্মাফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের প্রার্থী সামির কাদের চৌধুরীর আপিলে মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ড়্গীণ বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর বিকল্প প্রার্থী হলেন ও আই বি সিদ্দিকী। আসলামের বিকল্প হিসেবে বিএনপির হাইকমান্ড তাকে ভোটের মাঠে নামার প্রস’তি নিতে বলেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে শামসুল আলম হলেন বিকল্প প্রার্থী। এখানে ধানের শীষের মূল প্রার্থী হলেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। শামসুল ঝরে গেলে ডা. শাহাদাতই কারাগার থেকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী দুজনের একজন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন কারাগারে বন্দি। বাইরে থাকা বিকল্প প্রার্থী হলেন নুরম্নল মোসত্মফা খোকন।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে সামির কাদের চৌধুরীর বিকল্প প্রার্থী আছেন দুজন-উত্তর জেলা বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন শিকদার ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা আক্তার।
রাউজান ও সন্দ্বীপ আসনে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।