ফতেয়াবাদে অধিগ্রহণ ৭৫ একর জমি বেদখল

৬০ বছরেও প্রকল্প বাসত্মবায়ন হয়নি কেন ওয়াসার কাছে জানতে চাইবেন ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদে প্রায় ৬০ বছর আগে অধিগ্রহণ করা ৭৫ একর জমি প্রকল্প বাসত্মবায়ন না করে কেন ফেলে রাখা হয়েছে তা ওয়াসা’র কাছে জানতে চাইবেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্প বাসত্মবায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ জমি অধিগ্রহণ করেছিল। কিন’ ওই জমি ওয়াসা কর্তৃপড়্গকে এখনও বুঝিয়ে দেয়নি জেলা প্রশাসন। যে প্রকল্পের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেটি কয়েকবছর আগে চট্টগ্রাম নগরের মোহরায় বাসত্মবায়ন করেছে ওয়াসা। অধিগ্রহণ করা কিছু জমি ওয়াসার নামে বিএস খতিয়ানে অনত্মর্ভুক্ত হলেও বর্তমানে প্রায় জমি সংশিস্নষ্ট মালিকদের দখলে। বিগত প্রায় ৬০ বছরে এ জমিতে কোনো সীমানাও দেয়নি ওয়াসা।
বিষয়টি ভূমিমন্ত্রী অবগত নন বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ওয়াসা’র এমডিকে ডেকে পাঠাব। তাকে জিজ্ঞেস করব, কেন জমিটি প্রকল্প বাসত্মবায়ন না করে ৬০ বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। জমির মালিকরা চান-সরকার হয় প্রকল্প বাসত্মবায়ন করম্নক, না হয় তাদের জমি ফেরত দেয়া হউক, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেবেন বলে জানান ভূমিমন্ত্রী জাবেদ।
জানা গেছে, প্রসত্মাবিত প্রকল্প বাসত্মবায়নের ব্যাপারে ড়্গতিগ্রসত্ম ভূমির মালিকদের আপত্তি ছিল দীর্ঘদিন থেকে। ফলে প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে সমস্যা দেখা দেয়। ড়্গতিগ্রসত্ম ভূমির মালিকেরা জানান, জেলা ওয়াসার প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করলেও তা তাদের (ওয়াসার) দখলে নেই।
ভূমির মালিকদের একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী এনামুল হক বলেন, ‘১৯৬২ সালে জেলা প্রশাসন ওয়াসার নামে এ জমি অধিগ্রহণ করলেও এখনো গেজেট বিজ্ঞপ্তি হয়নি। অধিকাংশ ভূমির মালিককে ন্যায্য ড়্গতিপূরণও এ পর্যনত্ম দেওয়া হয়নি। ১৯৯৮ সালে এ জমি ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে আমরা রিট করেছি। ২০০১ সালে ওই মামলার রায় হয়। কিন’ এ রায়ে আমরা সন’ষ্ট হতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছি। এটি এখনও বিচারাধীন।’
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে উপজেলার চিকনদ-ি মৌজার ২৫ এবং দড়্গিণ পাহাড়তলী মৌজার ৫০ একর মোট ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসন। তবে মোট জমির অর্ধেক ওয়াসার বিপরীতে বিএস খতিয়ানভুক্ত হয়নি। বাকি সম্পত্তি প্রকৃত ভূমি মালিকদের নামে বিএস খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। ড়্গতিগ্রসত্ম ভূমির মালিক জাতীয় পার্টির স’ানীয় নেতা আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের উপযুক্ত ড়্গতিপূরণ না দিয়ে ২০০১ সালে ওয়াসা ‘থার্ড ইন্টেরিয়েম ওয়াটার প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প বাসত্মবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালায়। কিন’ এলাকাবাসী ও ভূমির মালিকদের বাধার কারণে সে প্রকল্প বাসত্মবায়ন হয়নি। এছাড়া একই নামের প্রকল্প কয়েকবছর আগে নগরের মোহরায় বাসত্মবায়ন করেছে ওয়াসা। ফলে আমরা আমাদের পৈত্রিক জমির ড়্গতিপূরণ চাই, নতুবা ফেরত চাই।’
ওয়াসার ভূসম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াসার জন্য এ জায়গা অধিগ্রহণ করলেও তা পুরোপুরি আমাদের দখলে নেই। ড়্গতিগ্রসত্ম ভূমির মালিকেরা উচ্চ আদালতে যে মামলা করেছিলেন, সে মামলার রায়ে সন’ষ্ট হতে পারেনি মালিকপড়্গ। তাই তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। তা এখনো বিচারাধীন।