বাঘাইছড়ি ঘটনা

৫০ জনকে আসামি করে মামলা

জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনকাজে নিয়োজিত ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে।
গতকাল রাতে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপুলিশ পরিদর্শক মো. আক্তার আলী বাদি হয়ে বাঘাইছড়ি থানায় মামলাটি করেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর আলম। মামলায় কারো নাম উলেস্নখ করা না হলেও নিজেদের কাছে থাকা ক্লু’র ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে বিলাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. পারভেজ আলী গতকাল রাত পৌনে নয়টায় নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কানিত্ম তঞ্চঙ্গ্যা হত্যার ঘটনায় তখন পর্যনত্ম কোনো মামলা হয়নি। নিহতের স্বজনদের
শেষকৃত্য সেরে মামলা করতে আসার কথা থাকলেও তখন অবধি তারা আসেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে নিহত সবার লাশ ময়না তদনত্ম শেষে যার যার পরিবারের কাছে হসত্মানত্মর করা হয়েছে। এবং ইতোমধ্যে প্রত্যেকের দাফন ও দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নিহতদের পারিবারিকসূত্রগুলো।
রাঙামাটিতে বিড়্গোভ
বাঘাইছড়িতে সাতখুন ও বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কানিত্ম তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিড়্গোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই বিড়্গোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। গতকাল সকালে রাঙামাটি পৌরসভা থেকে বিড়্গোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদড়্গিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিড়্গোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, চিং কিউ রোয়াজা, অংসু প্রম্ন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা সাম্প্রতিক হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসব ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফকে দায়ী করেন। তারা বলেন, পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের নির্মূল করতে হবে। পাহাড়ে আর রক্ত দেখতে চাই না উলেস্নখ করে বক্তারা বলেন, বারবার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে জনসংহতি সমিতি। আর কোনোভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ড়্গমতাসীন দলটির স’ানীয় নেতারা।
সমাবেশে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, আমরা স’ানীয় প্রশাসনের ওপর এখনো আস’া রাখছি, বিশ্বাস রাখছি যে তারা আমাদের নেতার খুনিদের অবশ্যই আইনে আওতায় আনবেন এবং যথাযথ পদড়্গেপ নেবেন। তবে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যনত্মই সেটা থাকবে, এটাও মনে রাখতে হবে। তিনি অবিলম্বে সুরেশ কানিত্ম তঞ্চঙ্গ্যার হত্যাকারীসহ পাহাড়ের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ-খুনিদের বিরম্নদ্ধে পদড়্গেপ নেয়ার জোর দাবি জানান।
দীপংকর বলেন, ‘মানুষ হত্যা করে, জীবন কেড়ে নিয়ে আর যাই হোক, চুক্তি বাসত্মবায়ন বা অগ্রগতি সম্ভব নয়। বরং চুক্তির বাকি ধারাগুলো বাসত্মবায়ন করতে হলে এসব খুন-মাসত্মানি বন্ধ করতে হবে। তবেই চুক্তির অগ্রগতি সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।’
জনসংহতি সমিতির বিবৃতি
এদিকে বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে ৭ সরকারি কর্মচারীকে হত্যা ও বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গুলি করে হত্যার জন্য যাদেরকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেই সন’ লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গতকাল এক বিবৃতিতে দুটি ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেছে, ‘একটি মহল জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে জড়িয়ে অভিযোগ করার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর দেয়া এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী কর্তৃক বাঘাইছড়ি উপজেলার নয় মাইল এলাকায় ব্রাশফায়ারে ৮ জন নিরীহ নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা ও অনেককে আহত করার ঘটনায় এবং গত ১৯ মার্চ সকালের দিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাকে কে বা কারা গুলি করে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেড়্গ তদনত্ম হওয়ার পূর্বেই এই ঘটনায় মনগড়া ও কাল্পনিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে বক্তব্য প্রদান কোনোভাবে যুক্তি ও বাসত্মবসম্মত নয়। এ ধরনের বক্তব্য প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে সুষ্ঠু তদনত্মকে যেমন বাধাগ্রসত্ম করবে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাসত্মবায়নসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিসি’তিকে আরও অসি’তিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে বলে জনসংহতি সমিতি মনে করে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র তথ্য ও প্রচার বিভাগের বিনয় কুমার ত্রিপুরা স্বাড়্গরিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কোনোভাবে উক্ত হামলা ও হত্যাকা-ের সাথে জড়িত নয়। জনসংহতি সমিতি উক্ত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত অপরাধীদের যথাযথ বিচারের দাবি জানায়। জনসংহতি সমিতি উক্ত ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের শোকসনত্মপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস’া গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। একই সাথে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তদুদ্দেশ্যে এবং পার্বত্য সমস্যার স’ায়ী সমাধান ও এ অঞ্চলে স’ায়ী শানিত্ম প্রতিষ্ঠার লড়্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাসত্মবায়নের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে। ’
ইউপিডিএফ’র বিবৃতি
বাঘাইছড়ির ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল যাদের দিকে, তাদের একটি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমার স্বাড়্গরে পাঠানো বিবৃতিতে ওই এলাকায় নিজেদের অবস’ান ব্যাখ্যা করে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘ঘটনাস’ল ইউপিডিএফ সমর্থক অধ্যুষিত হওয়ায় কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম ও এক শ্রেণির গোয়েন্দা সংস’া কর্তৃক দলটিকে সন্দেহের তালিকায় যুক্ত করায় ইউপিডিএফ ড়্গোভ প্রকাশ করে অবিবেচনাপ্রসূত মনত্মব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে’।
বিবৃতিতে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, ‘উক্ত উপজেলায় ইউপিডিএফ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে নিষ্ক্রিয় ছিল এবং ইউপিডিএফ’র কোনো প্রার্থীও ছিল না, তাহলে ইউপিডিএফ কেন নির্বাচনী টিমের ওপর হামলা করে নিজেদের অহেতুক বিতর্কে জড়াবে’?
বিবৃতিতে হামলার মোটিভ ও যৌক্তিকতা বিচার না করে কেবলমাত্র হীনউদ্দেশ্যে ইউপিডিএফ-এর ওপর দায় না চাপাতে এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহণ ও সাধারণ জনগণকে হয়রানি না করার আহ্বান জানানো হয়।