৩ দিনের টানা ছুটির পর যানজটে নাকাল নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা তিনদিন ছুটির পর গতকাল সোমবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। এতে শহরমুখো মানুষের স্রোত ছিল ব্যাপক। তাই অফিস সময়ে গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। এছাড়া নগরীর কয়েকটি এলাকায় মেরামতের জন্য রাসত্মা বন্ধ থাকার কারণেও সৃষ্টি হয়েছে যানজট। সকাল থেকে দুপুর পর্যনত্ম এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে শিড়্গার্থী ও অফিসগামী নগরবাসীকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর চকবাজার গোলজার মোড় থেকে জামাল খান মোড়, আসকার দীঘি থেকে কাজীর দেউড়ি, আন্দরকিলস্না থেকে মোমিন রোড, সিনেমা প্যালেস থেকে লালদীঘি, কোতোয়ালি মোড়, লালখান বাজার, জিইসি মোড়, টাইগার পাস, নিউ মার্কেট, আগ্রাবাদসহ নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে লেগে ছিল থেমে থেমে যানজট। এতে বিপাকে পড়তে হয় অফিসগামী কর্মজীবী ও শিড়্গার্থীদের। এছাড়াও নগরীর কয়েকটি সড়কে সংস্কার কাজ চলার কারণে যানজট সৃষ্টি হলেও জামাল খান সড়কে যানজট নিত্যদিনের ব্যাপার। এখানে ফুটপাত দখল করে পার্কিং করার কারণে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি হলেও ট্রাফিক প্রশাসন থাকে নীরব।
নগরীর জামালখান মোড়ের যানজটে আটকাপড়া আবদুল হামিদ বলেন, প্রতিদিন এ রোড দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। গণি বেকারি থেকে জামাল খান মোড়ে কখনো বা আসকারদীঘি মোড় পর্যনত্ম যানজট লেগেই থাকে। কোনোদিন দুপুর বা অফিস সময়ে ফাঁকা পাইনি। এখন গণি বেকারি থেকে হেঁটে জামাল খান পর্যনত্ম আসছি। কাজীর দেউড়ি পর্যনত্ম হেঁটে গিয়ে গাড়ি নেব।
এদিকে আন্দরকিলস্না থেকে চেরাগি মোড়, মোমিন রোড, জেএম সেন হলের সামনের যানজটে পুরো এলাকা স’বির হয়েছিল। তার মধ্যে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশও আটকে পড়ে কোনো সুরাহা করতে পারছেন না। চারদিকের যানবাহনের চাপে অসহায়ের মতো তিনি রাসত্মার ওপর দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেপরোয়া ড্রাইভার ও ফুটপাতে বসা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর কারণে কমছেই না যানজট। এভাবেই প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়। এ বাসত্মবতা সত্ত্বেও ফুটপাত ও সড়ক দখল করা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
গত কয়েক দিন আগেও মোমিন রোড এলাকার ফুলের দোকানদাররা ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখলে তা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। পাশাপাশি সড়কের ওপর বসা কাঁচাবাজারী ও ভ্রাম্যমাণদের একাধিকবার উচ্ছেদ করা হলেও ফের তারা দোকান বসানোর কারণে কোনো কাজেই আসছে না সড়কের প্রায় অর্ধেকাংশ ও ফুটপাত।
সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) হারম্ননুর রশিদ হাজারী এ ব্যাপারে বলেন, তিনদিন টানা ছুটির পর অফিস-আদালত খুলেছে। তাই অন্য দিনের তুলনায় যানজট একটু বেশি ছিল। আশা করি, আজ থেকে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে টিআই-কোতোয়ালির এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, শুক্র-শনি ও রোববার তিনদিন টানা বন্ধ থাকার পর অফিস-আদালত খুলেছে। তাই শহরমুখো মানুষের ভিড় বেশি ছিল। যার কারণে নগরীর প্রায় সব এলাকায় যানজট লেগেছিল।