৩ গ্রুপে ৬০ পকেটমার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছয় পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার মধ্যরাতে পোস্তারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে তারা ছিনতাইয়ের প্রস’তি নিচ্ছিল। গ্রেফতাররা হলো- মো. জামাল, মো. সোহেল, মো. বাদশা, মো. আলাউদ্দিন, মো. মুন্না ও কালু শেখ। তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
নগর ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-পশ্চিম) এএএম হুমায়ন কবীর জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। সম্প্রতি তারা বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়। এরপর এককাট্টা হয়ে ফের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আটক ছয়জনের মধ্যে তিনজন ছিনতাইয়ের পাশাপাশি পেশাদার পকেটমার। দুইজন ‘ব্যবসার’ নামে প্রতারণায় জড়িত। বাকি একজন গরু চুরি ও ছিনতাই অপরাধে জড়িত। গ্রেফতার ছয়জনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা হওয়ার পর গতকাল সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম।
তিনটি গ্রুপে পকেটমার ৬০ জন
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পেশাদার ছিনতাইকারী সাহাবুদ্দিন, ফারুক এবং জাহেদুল ইসলাম ওরফে লিটন ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাদের জানায়, তাদের দলে পকেটমার সদস্য আছে ৬০ জন। তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করে তারা। এ তিনজন পৃথকভাবে গ্রুপগুলোর নেতৃত্ব দেয়। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর বাসে উঠে ভিড়ের মধ্যে তারা হাতিয়ে নেয় মোবাইল ও মানিব্যাগ। নগরের ফ্রিপোর্ট থেকে দেওয়ানহাট এবং নিউমার্কেট এলাকার বাসে উঠে তারা পকেট মারে। তাদের ‘গুরু’ হিসেবে আছে ঢাকার পিচ্চি জামাল। তার (পিচ্চি জামাল) হয়ে তাদের ‘দেখভাল’ করে জাহেদ ওরফে ঘাড় বাঁকা জাহেদ। জাহেদের বাসা নগরের বাকলিয়ায়। তবে সে থাকে ঢাকার বাড্ডায়।
ডিবি পুলিশ জানায়, সোহেল, বাদশা ও জামাল পেশাদার পকেটমার। তারা সাহাবুদ্দিন ও ফারুকের গ্রুপে কাজ করে। ফারুক সাহাবুদ্দিনের ভাগিনা। পিচ্চি জামাল চট্টগ্রামে আসে না। জাহেদ প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। শুক্রবার সকালে পৌঁছায়। বিকেলে রেলস্টেশনে গিয়ে ফারুক, সাহাবুদ্দিন, লিটনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সপ্তাহে জাহেদ চট্টগ্রাম থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। কেউ গ্রেফতার হলে ছাড়ানোর ব্যবস’া করে জাহেদ ও জামাল।