বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা!

৩০ মামলার আসামি মশিউর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে ছিন্নমূল বস্তিবাসীর কথিত নেতা ৩০ মামলার আসামি কাজী মশিউর রহমানকে এক সহযোগীসহ গতকাল সোমবার ভোরে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ওয়ান শ্যুটার গান, ৫টি এলবিডিএল, ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
মশিউরের বাড়ি খুলনা জেলার ফুলতলা থানার পাইগ্রাম গ্রামে। বাবার নাম কাজী হাসান আলী। গ্রেফতার হওয়া তার সহযোগীর নাম মো. রফিক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি মামলা রয়েছে। বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার বাবধোনা মৌলভিপাড়ায়। বাবার নাম মো. শফিক। তবে তারা দুজনই থাকেন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল
ছলিমপুরে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান জানান, কাজী মশিউরের সহযোগী মো. রফিককে গতকাল বিকালে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। মশিউর চমেক হাসপাতালে ভর্তি আছে। বিপুল অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান ওসি ইফতেখার।
র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতারের আগে মশিউর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জঙ্গল ছলিমপুরে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামে দুর্ভেদ্য এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন মশিউর। গত এক যুগে সেখানকার কয়েকশ একর এলাকায় পাহাড় কেটে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের অবৈধ বসতি গড়ে তুলেন মশিউর।
র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার ভোররাতে জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান চালিয়ে ১৬টি অস্ত্র, গুলি এবং এক সহযোগীসহ মশিউরকে গ্রেফতার করা হয়। মশিউর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নিজের একটি বাহিনী গড়ে তুলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, ৫৫ বছর বয়সী মশিউরের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে। জঙ্গল ছলিমপুরই মশিউরের অপরাধের সাম্রাজ্য। তার সমিতিকে টাকা দিলে সেখানে বসবাসের অনুমতি মেলে। দুর্গম ওই এলাকায় প্রশাসনের খুব একটা প্রভাব না থাকায় গ্রেফতার এড়াতে বড় বড় সন্ত্রাসীরাও সেখানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদের বর্তমান সভাপতি গাজী সাদেকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মশিউর রহমান। এ সমিতির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার। দশ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস সেখানে। বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দা দিনমজুর, রিকশাচালক, ঠেলাচালক ও পোশাক কারখানাকর্মী।
জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ে অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আলী আক্কাসের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ২০১০ সালের ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হন আলী আক্কাস। পরে ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আসেন মশিউর। এই মশিউর ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
র‌্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছলিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জঙ্গল ছলিমপুর রূপ নিয়েছে ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসের জনপদে। সরকারি বনভূমি দখল, খুন, ধর্ষণ, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম জঙ্গল ছলিমপুরে ছড়িয়ে পড়েছে। সীতাকুণ্ডে দুর্গম জঙ্গল ছলিমপুরের সরকারি পাহাড় কেটে গত এক যুগে প্রায় ১৬ হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে।
ছিন্নমূল মানুষদের নামে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তুলে একটি চক্র পাহাড়ে ছোট ছোট প্লট বানিয়ে তা বেচাকেনা করছে। ইচ্ছেমতো পাহাড় কেটে সেখানে রাস্তা তৈরি করছে এবং জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আড়াই হাজার একর সরকারি বনভূমির অলিখিত মালিক বনে গেছেন মশিউর বাহিনীর প্রধান কাজী মশিউর রহমান। পাহাড় বিক্রির টাকা দিয়ে গত কয়েক বছরে দেশের নানা প্রান্তে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে জঙ্গল ছলিমপুরে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে এ মশিউর।