২৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পেলো ‘স্মার্ট লাইসেন্স’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সুফি মিজানুর রহমান, নগরীর প্রথম সিনেপ্লেক্স সিলভার স্ক্রিনসহ চট্টগ্রামের ২৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড প্রদান করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান তাঁদের হাতে এ কার্ড তুলে দেন। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড ও স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্স কার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইট ও অ্যাপসেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ৭ বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড তুলে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শিল্পপতি ডা. আহমেদ রবিন ইস্পাহানি, রাশেদুল আলম এবং নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু নিজে এ কার্ড গ্রহণ করেন। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড নেন। স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড ছাড়াও অনুষ্ঠানে ১৪ বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্স কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিনেমা ক্যাটাগরিতে সিলভার স্ক্রিনের মো. খালেদ শরিফ, ট্রান্সপোর্ট ক্যাটাগরিতে সুকুমার চন্দ্র পাল ও আমজাদ হোসেন, হোলসেইল অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর ক্যাটাগরিতে মঈনুল আলম সাইমন, জুয়েলারি ক্যাটাগরিতে স্বপন চৌধুরী ও মৃণাল কান্তি ধর,আবাসিক হোটেল ক্যাটাগরিতে আব্দুল করিম, ইটভাটা ক্যাটাগরিতে ফরিদুল আলম, রেস্টুরেন্ট ক্যাটাগরিতে মনজুরুল হক, হোলসেইল অ্যান্ড রিটেইল ক্যাটাগরিতে জগন্নাথ বৈষ্ণব, স্বপন বৈষ্ণব ওতপন বৈষ্ণব, ভেন্ডর ক্যাটাগরিতে বিষ্ণু কুমার ও ইব্রাহিম খলিল এ কার্ড গ্রহণ করেন।
স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে উদ্যোগ- স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড প্রদানের মাধ্যমে তা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এ ধরনের ইউনিক ইনোভেশনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘স্মার্ট লাইলেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর আওতায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল ধরনের ডিলিং লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি মাইলফলক।’
তিনি বলেন, ‘কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক সিকিউরিটিসহ অন্যান্য বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত স্মার্টকার্ড নাগরিক সেবায় স্বাচ্ছন্দ্য আনবে। আধুনিক স্মার্ট সলিউশন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল প্রকার লাইসেন্সের তথ্য এক ঠিকানাতেই পাওয়া যাবে। এই সিস্টেমের আওতায় যে কোনো স’ান থেকে লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা যাবে। ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার বন্ধ হবে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অপরাধ দমন, রাষ্ট্রীয় জননিরাপত্তা বিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলারক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে স্মার্ট লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।’
অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে তথ্য উপস’াপন করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ওয়েব পোর্টাল ও ভূমি ব্যবস’াপনা বিষয়ক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ ইমতিয়াজ।
অনুষ্ঠানে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স গ্রহীতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্পপতি সুফি মিজানুর রহমান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মমিনুর রশিদ, স’ানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাশহুদুল কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিরুল কায়ছার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মেহেদী হাসানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন।
স্পেকট্রাম আইটি সলিউশনের কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড তৈরির উদ্যোগ নেয়। কার্ডে একজন ব্যক্তির নাম-ঠিকানা, আইরিশ-বায়োমেট্রিক ছাপসহ লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ১৪ ধরনের তথ্য থাকবে।
ইস্যুর পর কার্ডের সব ধরনের তথ্য জেলা প্রশাসনের নিজস্ব পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর লাইসেন্স কার্ড নবায়ন না করলে ওই কার্ড সয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে। এছাড়াও নকল এড়াতে কার্ডে থাকবে বারকোড এবং স্ক্যানকোডও।