২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস গৃহকর আদায় কমেছে

মোহাম্মদ আলী

পঞ্চ-বার্ষিকী গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের (রি-অ্যাসেসমেন্ট) স’গিত হওয়ায় কমেছে গৃহকর আদায়। বিশেষ করে নতুন হোল্ডিং মালিকদের গৃহকর প্রদানে অনীহায় বেকায়দায় রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশন। এ অবস’ায় গৃহকর আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে চসিক। অবশ্য, অর্থবছর শেষে গৃহকর আদায়ে ভালো অবস’ানে থাকার কথা জানিয়েছে চসিকের কর্মকর্তারা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১৬৪ কোটি ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকা (ছয় মাসের মোট দাবি) গৃহকর আদায়ের লড়্গ্যমাত্রা ছিল চসিকের। বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৭৮ কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৯ টাকা। যা গত অর্থ বছরের (২০১৭-১৮) প্রথম ছয় মাসের চেয়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯০ টাকা কম। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে উলেস্নখিত ৪৬৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩২ গৃহকর আদায়ের লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ছয়মাসে অর্জিত হয়েছে মাত্র ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।
রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৫ কোটি ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৫ টাকার লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে গৃহকর আদায় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ৭২৬ টাকা। জুলাই মাসে একই পরিমাণ লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৪৯ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৬ টাকার লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে
১২ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৬৯৭ টাকা। অক্টোবর মাসে ২৮ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭ টাকার লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৮ টাকা। একই লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে গৃহকর আদায় হয়েছে যথাক্রমে ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৯ টাকা ও ৯ কোটি ৩২ হাজার ৯১৬ টাকা।
পঞ্চ-বার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়ন স’গিত হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব গৃহকর আদায়ে এখনো রয়েছে বলে মনে করেন চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। রাজস্ব বিভাগের উপ-কর কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নগরীতে নতুন নতুন ভবন হচ্ছে। পুরাতন ভবনে ফ্লোর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কিন’ রি-অ্যাসেসমেন্ট স’গিত হয়ে যাওয়ায় নতুন হোল্ডিং মালিকেরাও গৃহকর দিচ্ছে না। তারা বিভ্রানিত্মতে আছেন। এছাড়া বিত্তবান ও রাজনীতিবিদদের মধ্যেও গৃহকর প্রদানে অনীহা আছে।’
গৃহকর আদায়ে চসিকের রাজস্ব বিভাগকে আরো তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘কর প্রদানে নাগরিকদের অনীহা আছে। চসিকের রাজস্ব বিভাগেরও কিছু ব্যর্থতা আছে। নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য গৃহকর আদায় অপরিহার্য।’
তবে আশার কথা শুনালেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। তিনি বলেন, ‘অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কর আদায় একটু কম হয়। অর্থবছর শেষে দিকে কর আদায় বৃদ্ধি পায়। আশা করছি, ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ গৃহকর আদায় হবে।’
চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) বাজেটে ৬৯৪ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা রাজস্ব আয়ের লড়্গ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চসিক। এর মধ্যে গৃহকরে লড়্গ্যমাত্রা হলো ৪৬৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা।