১৩ বছর পর বন্দরে নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বন্দরে এলো তিন ‘কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন’। চীন থেকে আসা এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে আসা জাহাজটি বন্দরে ভিড়েছে। তিন গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরের বহরে যুক্ত হতে সময় লাগবে এক মাস। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে যুক্ত হতে যাওয়া এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন বাড়াবে বন্দরের কর্মক্ষমতা এবং কমে আসবে জেটিতে জাহাজের গড় অবস’ানকাল। নতুন তিন গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বন্দরে এখন গ্যান্ট্রি ক্রেনের সংখ্যা হলো পাঁচটি। আগামী মাসে আসছে আরো দুটি। এর আগে ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো বন্দরে তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করা হয়েছিল।

নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন আসার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ‘চীন থেকে আসা এই তিন গ্যান্ট্রি ক্রেন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে যুক্ত হবে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী মাসে আসবে আরো দুটি।’

বন্দরের পক্ষ থেকে অনেক কিছুই টার্গেট দেয়া হয় কিন’ কখনো কখনো তা নির্ধারিত সময়ে পূরণ করা যায় না। কিন’ নতুন এই তিন গ্যান্ট্রি ক্রেন চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসার কথা অনেক আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল এবং তা যথারীতি এলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে একটা নির্ধারিত লক্ষ নিয়ে কাজ করছি। আর এজন্যই নির্ধারিত সময়ে তা পূরণ হচ্ছে। বে টার্মিনালের কাজের যেমন অগ্রগতি হচ্ছে, তেমনি তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেনও যথাসময়ে এলো। আগামী মাসে আসবে আরো দুটি।
নতুন এসব উপকরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো ১৫ সারি পর্যন্ত কনটেইনার ওঠানামা করাতে পারবে। বর্তমানে বন্দরে থাকা গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো ১৩ সারি পর্যন্ত যেতে পারে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। একটি গ্যান্ট্রি ক্রেন বছরে একলাখ করে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করতে পারবে।

কবে নাগাদ এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন অপারেশনে যুক্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো যুক্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এগুলো চালু করা যাবে।
নতুন এসব গ্যান্ট্রি ক্রেন চালু হলে কি সুবিধা পাওয়া যাবে, জানতে চাইলে বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, বন্দরে জাহাজের গড় অবস’ান সময় অনেকাংশে কমে আসবে। জাহাজ থেকে কনটেইনার অপসারণ যেমন দ্রুত হবে, তেমনি কনটেইনার লোড করতেও সময় কম লাগবে। এতে বন্দরের গতি বাড়বে। ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবে।
এদিকে চলতি বছর ছয়টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ার

পাশাপাশি আগামী বছর আরো চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনার জন্য চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৩৮ কোটি ৬১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ৪০ টন ধারণক্ষমতার চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন চীন থেকে আনা হবে। চীনের সাংহাই জেনহুয়া হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি এসব ক্রেন সরবরাহ করবে। নতুন আসা এবং আগামী মাসে আসতে যাওয়া কিউ গ্যান্ট্রিক্রেনগুলোও সরবরাহ করছে চীনের এই প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের মধ্যে ২০০৯ সালে ৯৮তম স’ানে ছিল। গত কয়েক বছর ধরে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়ে যাওয়ায় ২০১২ সালে ৯০, ২০১৪ সালে ৮৭, ২০১৫ সালে ৭৬ এবং ২০১৬ সালে ৭১তম স’ান অধিকার করে। এখনো ২০১০৭ সালের র্যাংকিং প্রকাশ করা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৪ সালে ১৭ লাখ ৩১ হাজার ২১৯, ২০১৫ সালে ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭, ২০১৬ সালে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ এবং ২০১৭ সালে ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭টি একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে। অপরদিকে চলতি বছরে জুন মাস পর্যন্ত হ্যান্ডেলিং করে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫ একক কনটেইনার। বাড়তি কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য বন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে আছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। যা আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পও।