এমপি বদির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ

১০ বছরেও হয়নি অভিযোগ গঠন

সরকার হাবীব

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় টেকনাফের এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান বদির বিরম্নদ্ধে ১০ বছরেও হয়নি অভিযোগ গঠন। স্পর্শকাতর এ মামলার এতদিন অভিযোগ গঠন না হওয়ায় এখনো শুরম্ন করা যায়নি বিচার। অথচ দুদকের দায়ের করা গুরম্নত্বপূর্ণ ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৪ জুন অভিযোগপত্র দেয় দুদকের তৎকালীন তদনত্মকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে জামিনে রয়েছেন সাংসদ আবদুর রহমান বদি।
এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে এমপি বদির বিরম্নদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের ১০ বছরেও অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরম্ন না হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এমপি বদি ড়্গমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করে বেঁচে যাচ্ছেন। আর বদির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরম্ন না হওয়াকে সুশাসনের জন্য বড় আঘাত বলে মনত্মব্য করছেন সচেতন মহল।
তাদের বক্তব্য, সাংবিধানিকভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করা ফৌজদারি অপরাধ। দীর্ঘ ১০ বছর পরও এমপি বদির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরম্ন করতে না পারাটা প্রসিকিউশনের জন্য লজ্জার বিষয়। একই সাথে এটি তাদের জন্য বড় ব্যর্থতাও। বিচার বিলম্ব করতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ঘোরাঘুরি করছেন আসামি। এ অবস’ার জন্য সরকারি কৌসুলীদেরও দায় রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আকতার কবির সুপ্রভাতকে বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করা সুশাসনের জন্য একটি বড় বাধা। সমাজের জন্য এটি একধরনের আঘাতও। দ্রম্নত অভিযোগ গঠন করে এমপি বদির বিরম্নদ্ধে বিচার শুরম্ন করা এখন সময়ের দাবি।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের ডিসপোজাল সংক্রানত্ম জটিলতায় বদির বিরম্নদ্ধে দীর্ঘ ১০ বছরেও অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরম্ন করা যায়নি। দুদকের অভিযোগের বিরম্নদ্ধে এমপি বদি আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন দাখিল করায় এবং শুনানির বিষয়ে আপিল বিভাগ থেকে কোন ডিসপোজাল অর্ডার না আসায় গত ধার্য্য তারিখে অভিযোগ গঠন সম্ভব হয়নি।
দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বর্তমানে মামলাটি বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রম্নহুল আমিনের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি আদালতে আপিল বিভাগের আদেশ ও এমপি বদির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আশাকরি এর আগে আপিল বিভাগ কর্তৃক ডিসপোজাল সংক্রানত্ম আদেশ পেয়ে যাব।’
সূত্র মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে
নিজ নামে, স্ত্রী শাহীন আকতার এবং মেয়ে সামিয়া রহমানের নামে ৫৫ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ টাকা মূল্যের স’াবর ও অস’াবর সম্পদের মালিকানা রয়েছে বলে উলেস্নখ করেন এমপি বদি। কিন’ দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকৃতপড়্গে তাদের নামে মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৭ টাকা মূল্যের স’াবর ও অস’াবর সম্পদ রয়েছে। ফলে আবদুর রহমান বদি কমিশনে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স’াবর ও অস’াবর সম্পদ গোপন করেছেন। এছাড়াও মামলার এজাহারে দেখা যায়, ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখল করেছেন আবদুর রহমান বদি।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সম্পদ গোপন পূর্বক দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদানসহ অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অপরাধে আবদুর রহমান বদির বিরম্নদ্ধে ডবলমুরিং থানায় দুর্নীতির একটি মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। মামলায় বদির বিরম্নদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অপরাধে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২), ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০০৭ সালের জরম্নরি ড়্গমতা বিধিমালার ১৫ঘ(৫) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়। এরপর মামলার তদনত্মকারি কর্মকর্তা ২০০৮ সালের ২৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।