বনকর্মীদের অভিযান

১০ অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও চোরাই গাছ উদ্ধার চকরিয়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ায় বনবিভাগের অভিযানে সামাজিক বনায়ন দখল করে নির্মিত অন্তত ১০টি অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত সোমবার সকাল দশটার দিকে শুরু হয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা চারঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী বনবিট এলাকায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও হারবাং বনবিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বনবিভাগের বিপুল সংখ্যক বনকর্মী। অপরদিকে রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে অপর একটি অভিযানে বরইতলী বনবিট এলাকা থেকে কাটা অবস’ায় চোরাই ১৫ টুকরো গর্জন গাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বরইতলী বনবিট এলাকার সামাজিক বনায়নের জায়গা দখল করে একটি চক্র বিপুল পরিমাণ অবৈধ বসতি নির্মাণ করে। ঘটনাটি ভুক্তভোগী উপকারীরা স’ানীয় বনবিভাগকে জানালে এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে বরইতলী বনবিট এলাকার সামাজিক বনাঞ্চল এবং বেতবাগান এলাকা থেকে অন্তত ১০টি অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন, বরইতলী ও হারবাং বনবিটের অবৈধ বসতিগুলো উচ্ছেদেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে ট্রান্সফের্াসের মাধ্যমে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। তার নেতৃত্বে অপর একটি অভিযানে বরইতলী বনবিট এলাকা থেকে কাটাবস’ায় অন্তত ১৫ টুকরো গর্জন গাছ উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস’া নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা।
স’ানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতী রেঞ্জের অধীন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী বনবিটের পক্ষ থেকে সামাজিক বনায়নের আওতায় ৩৫ হেক্টর উটলগ বাগান সৃজন করে ইউনিয়নের ভূমিহীন ১১টি পরিবারকে অংশীদার করা হয়। গাছ রোপণের পর ওই সময় সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে বরইতলী মৌজার ১৪৬৩৯ ও ১৫০৩৮ নম্বর বিএস দাগের উল্লিখিত জায়গা প্লট আকারে বরাদ্দ দেয়া হয় স’ানীয় ভূমিহীন মৃত গোলাম কাদেরের ছেলে আহমদ হোসেন, মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুল খালেক, মৃত মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে আবদুল হাকিম, মৃত ওসমান গনীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, আজিজুর রহমানের ছেলে জসীম উদ্দিন, মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ, মৃত কবির আহমদের ছেলে সরফুদ্দিন, লাল মিয়ার ছেলে মোজাফফ্র আহমদ, জ্যোস্নাময় দে’র ছেলে জগদিস দে, মৃত দেবেন্দ্র ঘোষের ছেলে ঝুনু কুমার ঘোষ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র স্ত্রী রওশন আক্তারকে।
ভুক্তভোগী উপকারভোগীরা জানান, বনায়ন সৃজনের পর রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্রায় ৫ বছরের ব্যবধানে প্রতিটি প্লটে গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে। ইতোমধ্যে স’ানীয় একটি প্রভাবশালীচক্র তাদের বনায়নের ওই জায়গা জবরদখলের জন্য নানাভাবে তোড়জোড় চালাতে চেষ্টা করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর অভিযুক্ত প্রভাবশালীচক্রটি ভাড়াটে লোকজন জড়ো করে উপকারভোগীদের বনায়নে হানা দেয়। এসময় তারা একে একে সবকটি বনায়নের সৃজিত হাজার হাজার রকমারি গাছ কেটে লুটে নেয়ার পর জায়গাগুলো জবরদখলে নেয়। পরে দখলে নেয়া ওই জায়গায় প্রভাবশালীচক্রটি প্লট আকারে বিক্রি করেছে, আর তাতে রাতারাতি তৈরি করা হয়েছে নতুন নতুন অবৈধ বসতি।
বনায়নের গাছ কেটে লুট ও জায়গা দখলের ঘটনায় গত ২ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি নালিশী মামলা দায়ের করেন বনায়নের উপকারভোগী বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে সরফুদ্দিন ও বরইতলী হিন্দুপাড়া গ্রামের জ্যোস্নাময় দে’র ছেলে জগদীশ দে।
দুটি মামলায় গাছ কাটা ও জায়গা দখলের ঘটনার সাথে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাতজনকে। তারা হলেন বরইতলী ইউনিয়নের একতা বাজারস’ খয়রাতী পাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোবাশ্বের আহমদ, আহমদ হোসেন চৌকিদারের ছেলে নুরুল হক ছুট্টো, আকবর আহমদের ছেলে শিবির নেতা হাফেজ আবদুল করিম, আলী হোসেনের ছেলে শিবির নেতা হাফেজ নুর আহমদ, এরশাদ উল্লাহর ছেলে আহসান উল্লাহ, মোজাহের পাড়া গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে শিবির নেতা হাফেজ মিজানুর রহমান, মাইজপাড়া গ্রামের আবুল হাশের ছেলে আমজাদ হোসেন বাবুল।
মামলার আর্জিতে দুই বাদি দাবি করেন, অভিযুক্তরা বনায়নের জায়গা দখলের জন্য গাছ কেটে লুট করে। পরে জায়গা দখলে নেয়। এতে উপকারভোগী ১১টি ভূমিহীন পরিবারের প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। বাদির অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলার বাদি সরফুদ্দিন ও জগদীশ দে জানান, আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলা দুটি তদন্ত করছেন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই আলমগীর আলম।
ভুক্তভোগী উপকারভোগীরা জানিয়েছেন, ৯ জানুয়ারি বনবিভাগের অভিযানে বরইতলী বনবিটের সামাজিক বনায়ন এলাকার বেশ কিছু অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন’ এখনো বেশির ভাগ নতুন ভাবে তৈরি করা বসতি বহাল রয়ে গেছে। এ অবস’ায় ভুক্তভোগীরা এসব অবৈধ বসতি উচ্ছেদপূর্বক তাদের বনায়ন উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন