হোলি উৎসবে রঙিন মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেউ নিজেকে করেছে রঙিন, আবার কেউ অন্যকে রাঙিয়ে তুলেছে নানা রঙে। সবার চোখ ও মুখ ছিল উৎসবে রঙিন। নেচে গেয়ে, নানা রঙের রং মাখিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে পালন করা হয় হোলি উৎসব। বন্ধু-বান্ধবী, বড়ভাই-ছোটভাই, চেনা-অচেনা কোনো ভেদাভেদ নেই। সকলের চেহারা হারিয়ে গেছে আবিরের নানা রঙে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দোল পূর্ণিমার দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকেই এই হোলি উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেন। গতকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আনন্দ ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি বড়দের আনন্দও কম ছিল না। সকলেই আবির ও রঙ নিয়ে ছুটে বেরিয়েছে এপাড়া থেকে ওপাড়া। একে অন্যকে আবিরের রঙে সাজিয়েছে নিজের মত করে।
হোলি হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তর সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোলাযাত্রার দিন এ মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় পরস্পর তারা রঙ খেলার আনন্দে মেতে উঠেন।
দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।
ফাল্গুন মাসের শুক্লা চতুদর্শীতে ও পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘হোলি’। হোলাক বা হোলক নাম থেকে এসেছে এ উৎসবের নাম।
গতকাল দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরগুলোতে আয়োজন করা হয় পূজার। সকাল থেকেই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে ভক্তদের দেওয়া হয় অঞ্জলি। বিতরণ করা হয় প্রসাদ। পূজা শেষে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহে আবির দিয়ে স্নান করিয়ে ভক্তরা এক অপরকে আবির মেখে দেন।
গতকাল নগরীর চকবাজার, ফুলতলা, ঘাসিয়াপাড়া, রাজাপুর লেইন, হেমসেন লেইন, টেরীবাজার রঘুনাথবাড়ি, হাজারীলেইন পাথরঘাটা এলাকায় প্রতিবছরের মত এবারও উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করা হয় হোলি উৎসব।
হোলিতে অংশ নেওয়া সিটি কলেজের শিক্ষার্থী শম্পা দে বলেন, আজকের দিনটি সর্বজনীন। তাই ভেদাভেদ ভুলে ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে হোলি খেলায় মেতেছি।
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া ঐশী চক্রবর্তী বলে ‘আজকের দিনটি শুভ ও আনন্দের। রঙের মতই রঙিন হয়ে সুখ ও শান্তি ভরে উঠবে সকলের জীবন এমনটাই প্রত্যাশা।’
এছাড়া হোলি উৎসবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও ছিল সরব। যে যার পেজে হ্যাপি হোলির শুভেচ্ছা ও আবিরের নানা রঙে রাঙানো মুহূর্তগুলো তুলে ধরেছেন।
তবে আজ শুক্রবার আবারও রঙের খেলায় মেতে উঠবে সবাই। কারণ প্রথমদিন আবিরের রঙ ও পরের দিন নানা রঙে রাঙানো হয় বলে জানান হোলি উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা।