হোপের অসাধারণ সেঞ্চুরি সমতায় ফিরলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

লড়াইটা ছিল যেন শেই হোপের সঙ্গে বাংলাদেশের। দুর্দানত্ম ব্যাটিংয়ে সেই যুদ্ধে জিতলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারম্নণ এক জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫৬ রানের লড়্গ্য ২ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা। খবর বিডিনিউজ।
তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে মঞ্চ ছিল প্রস’ত। কিন’ দৃঢ় ভিতের সুবিধা নিতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। তাই বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপড়্গে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ থামে আড়াইশ ছাড়িয়েই।
ক্রিজে ছিলেন সাকিব ও মাহমুদউলস্নাহ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১০ ওভারে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন’ উঠেনি প্রত্যাশিত ঝড়, মাত্র ৬৪ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ৬৭ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিমো পলের সঙ্গে হোপের দারম্নণ জুটিতে লড়্গ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।
চ্যালেঞ্জিং লড়্গ্য তাড়ায় শুরম্নটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কাইরন পাওয়েলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া চন্দ্রপল হেমরাজ কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ। ওপেনারকে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে ফেলে প্রথম আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে ৬৫ ও মারলন স্যামুয়েলসের সঙ্গে ৬২ রানের দুটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে ২ উইকেটে ১৩২ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান হোপ। ব্রাভোকে বোল্ড করে বিদায় করেন রম্নবেল হোসেন। মুসত্মাফিজুর রহমানের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরেন স্যামুয়েলস।
শূন্য রানে জীবন পাওয়া শিমরন হেটমায়ারকে দ্রম্নত ফেরান রম্নবেল। রোভম্যান পাওয়েল ও রোস্টন চেইসও টিকেননি বেশিড়্গণ। তবে হোপের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপ-পলের চমৎকার জুটিতে এগোনো দলটির শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান।
রম্নবেলের ওভার থেকে ১০ আর মুসত্মাফিজের ওভার থেকে ১৬ রান আসায় কাজটা হয়ে যায় সহজ। মাহমুদউলস্নাহর করা শেষ ওভারের প্রথম চার বল থেকে বাকি ৬ রান তুলে নেয় সফরকারীরা।
১৪৪ বলে ১২ চার ও তিন ছক্কায় ১৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাচ সেরা হোপ। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়া পল করেন ১৮ রান।
রম্নবেল ২ উইকেট নেন ৫৭ রানে। মুসত্মাফিজ ৬৩ রানে নেন দুটি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরম্নটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। গতিময় পেসার ওশান টমাসের বলে শূন্য রানে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরেন ইমরম্নল কায়েস।
শুরম্ন থেকে আস’ার সঙ্গে খেলছিলেন তামিম। আগের ম্যাচে অপরাজিত ফিফটিতে দলকে জয় এনে দেওয়া মুশফিকও দিয়ে যাচ্ছিলেন দারম্নণ সঙ্গ। তাদের ব্যাটে সরে যায় চাপ, বাড়ে রানের গতি।
এক সময়ে তামিমকে ছাড়িয়ে যান মুশফিক। কিপার ব্যাটসম্যানই আগে পৌঁছান ফিফটিতে। খানিক পর পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তামিমও। পঞ্চম তিন অঙ্ক ছোঁয়া জুটিতে নিজেদের করে নেন ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটির রেকর্ড।
পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বাজে শটে উইকেট ছুড়ে আসেন তামিম। দেবেন্দ্র বিশুকে সস্নগ করে উড়ানোর চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন কেমার রোচের হাতে। ৬৩ বলে ৪ চার ও একটি ছক্কায় তামিম করেন ৫০। ভাঙে ১১১ রানের জুটি।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে মুশফিককে ফেরান টমাস। ৮০ বলে ৫ চারে ৬২ রান করা কিপার ব্যাটসম্যান অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ধরা পড়েন হোপের গস্নাভসে।
৭ রানের মধ্যে তামিম-মুশফিককে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ভাটা পড়ে রানের গতিতে। সাকিব ও মাহমুদউলস্নাহকে চেপে ধরে সফরকারীরা।
সাবধানী ব্যাটিংয়ে শুরম্ন করা দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অর্ধশত রানের জুটিতে গড়েন প্রতিরোধ। তাদের দৃঢ়তায় ৪০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৯১ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
এই দৃঢ় ভিত কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। তৃতীয় পাওয়ার পেস্নর প্রথম ওভারে পাওয়েলকে উড়ানোর চেষ্টায় মাহমুদউলস্নাহ ফিরলে ভাঙে ৬১ রানের জুটি।
টমাসকে আপার কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে দ্রম্নত ফিরেন সৌম্য সরকার। এক্স রেতে কোনো চিড় ধরা না পড়ায় ব্যাটিংয়ে ফিরেন লিটন। তিনিও বেশি কিছু করতে পারেননি।
গতির ঝড় তোলা টমাসের ওপর চড়াও হন সাকিব। ক্যাচ দিয়ে ‘নো’ বলের জন্য বেঁচে যাওয়ার পর ফ্রি-হিটে ছক্কায় পৌঁছান ফিফটিতে। দ্রম্নত এগোনো সাকিবকে বোল্ড করে থামান রোচ। বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৬২ বলে ৬ ছক্কা ও এক চারে ফিরেন ৬৫ রান করে।
শেষটায় তেমন কিছু করতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মিরাজ। শেষ ৫ ওভার থেকে আসে কেবল ২৬ রান। শেষের এই মন’র ব্যাটিং শেষটায় গড়ে দিল পার্থক্য।
সংড়্গিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৫৫/৭ (তামিম ৫০, লিটন ৮, ইমরম্নল ০, মুশফিক ৬২, সাকিব ৬৫, মাহমুদউলস্নাহ ৩০, সৌম্য ৬, মাশরাফি ৬*, মিরাজ ১০*; রোচ ১/৩৯, টমাস ৩/৫৪, চেইস ০/২২, পল ১/৬৮, বিশু ১/২৭, পাওয়েল ১/৪১)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৯.৪ ওভারে ২৫৬/৬ (হেমরাজ ৩, হোপ ১৪৬*, ব্রাভো ২৭, স্যামুয়েলস ২৬, হেটমায়ার ১৪, পাওয়েল ১, চেইস ৯, পল ১৮*; সাকিব ০/২৮, মিরাজ ১/৩৯, মুসত্মাফিজ ২/৬৩, মাশরাফি ১/৫২, মাহমুদউলস্নাহ ০/১২, রম্নবেল ২/৫৭)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ