শিশু একাডেমির প্রস্তাবিত শিশু বিকাশ কেন্দ্র

হেসে খেলে বেড়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত ৩০০ শিশু

আজিজুল কদির

দুই মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার কাটছিল বাঁশখালীর আছিয়া খাতুনের। দুই বছর আগে হঠাৎ গাড়ি দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তারপর দুই মেয়েকে নিয়ে শহরে চলে আসে মা আছিয়া খাতুন। এরই মধ্যে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। কিন’ চিন্তায় পড়ে যায় দুই মেয়ে আট বছরের সাদিয়া ও ছয় বছরের আরজুকে নিয়ে। কারণ গার্মেন্টসে গেলে তখন চিন্তাটা আরো বেড়ে যেত। কিন’ তাদেরকে শিশু বিকাশ কেন্দ্রে দিতে পেরে চিন্তামুক্ত হলো মা আছিয়া খাতুন।
আট বছরের সাদিয়া ও ছয় বছরের আরজু দুই বোন প্রতিদিন সকাল আটটায় চলে আসে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব বাকলিয়া রসুলবাগ আবাসিক এলাকার শিশু বিকাশ কেন্দ্রে। এখানে এসে বেশ আনন্দে কাটে তাদের সারাটাদিন। ছবি মিলিয়ে ওরা বর্ণমালা শেখে। এখানে বই, খাতা, কলম শিক্ষার সব উপকরণের ছোঁয়া পেয়ে বেশ আনন্দেই দিন কাটছে তাদের।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক প্রস্তাবিত শিশুর বিকাশে দেশব্যাপী প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রকল্প কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত মাসেই। নগরীর বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ১০টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। যার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় আছে ইউনিসেফ। আর তাতে হেসে খেলে বেড়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত ৩০০ শিশু।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আওতায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক প্রস্তাবিত শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর সিটি করপোরেশনের বস্তি এলাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইউনিসেফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় শিশু বিকাশ কার্যক্রমের অংশ এটি। আর সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত মাসেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্ভাব্য ৭টি ওয়ার্ডে ১০টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়।
আর ১০টি বিকাশ কেন্দ্র হচ্ছে যথাক্রমে, ফয়েজ লেক ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের শান্তি নগর কলোনি, ১১ নম্বর হালিশহরের বারেক মিয়া রহিম কলোনি আব্দুল পাড়া, রসুল পুর আবাসিক এলাকা ও মোজাফফর রোড়ের আবুল হোসেন বাড়ি, বাকলিয়া ১৮ নম্বর ও ১৯ নম্বর দক্ষিণ বৌ বাজার রসূল কলোনি, শাহরিয়ার খালেক কলোনি, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার, আরবান হেলথ কেন্দ্র, দেওয়ান বাজার। এছাড়া রয়েছে ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গা বাজারে একাট, এবং ৫ নম্বর মোহরায় ২টি কেন্দ্র।
১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া রসুলপুর আবাসিক এলাকার শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষক উম্মে সালমা বলেন, এখানে আগত শিশুদের বেশ আনন্দ নিয়ে সময় কাটছে। বলা যায় আনন্দময় এক পাঠের মাধ্যমেই তারা বেড়ে উঠছে এই ছোট্ট আঙিনায়।