কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাগাতার প্রাণহানি

হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাগাতার প্রাণহাণির ঘটনার লাগাম টানতে এবার হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালকের কাছে তেল বিক্রি না করতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এজন্য এখন থেকে চকরিয়ার সকল পেট্রোল পাম্পকে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান জানিয়েছেন।
গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, গত দুদিনে মহাসড়কের চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১জন মানুষ মারা গেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগের দুজন নেতা মারা যান। ওই সময় তারা যদি হেলমেট পরে থাকতেন তাহলে হয়তো ওরকম ঘটনা এড়ানো যেতো। আমরা যদি একটু সচেতন হই, অন্তত দুর্ঘটনায় আহত হলেও মৃত্যুর মতো ঘটনা কম ঘটবে। তাই আমরা চকরিয়ায় যে সমস্ত পেট্রোল পাম্প রয়েছে সবগুলোকে নোটিস দিয়ে হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালকদের তেল না দিতে জানিয়ে দেবো। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
এসময় সভার প্রধান অতিথি চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, দুর্ঘটনা শুধুমাত্র স্বজনহারানো নয়। সমাজের তথা দেশের সম্পদ হারানো। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শুক্রবার (আজ) থেকে তিনদিন উপজেলায় মাইকিং করা হবে। যাতে হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালানো না হয়। এরপর থেকে প্রশাসন অভিযানে নামবে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেসব মোটরবাইক চালক হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালাবেন তাদের তেল না দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। শুধুমাত্র চালকের মাথায় হেলমেট থাকলে হবে না, গাড়ি চালানোর সময় তার সঙ্গে থাকা আরোহীদেরও হেলমেট পরানোর নির্দেশনা দেন তিনি।
এদিকে গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলার হারবাং ও বরইতলী এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতকে আহবায়ক করে পুলিশের একজন কর্মকর্তা, মালুমঘাট ও চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধি, দুজন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন কর্মকর্তা, সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে চকরিয়া প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি ছোটন কান্তি নাথ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হানিফসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে তদন্ত রিপোর্ট দেবেন। এর আলোকে ব্যবস’া নেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এসময় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চুরি-ডাকাতি, মাদক, ইভ টিজিং ও সড়কে চলাচলরত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপসি’ত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, নারী ভাইস-চেয়ারম্যান সাফিয়া বেগম শম্পা, উপজেলা হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহবাজ খান, চকরিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম. জাহেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিজবাউল হক, চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোর্শেদ, শ্রমিক নেতা কামাল আজাদ, বাংলাদেশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ চকরিয়া শাখার সভাপতি তপন কান্তি দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।