নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল

হেফাজতে নেই মুফতি ইজহার

সালাহ উদ্দিন সায়েম
Mufti-Izaher.1

হেফাজতে ইসলাম থেকে নাম কাটা পড়লো লালখান বাজার ‘জামেয়াতুল উলূম আল-ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি এখন সংগঠনটির নায়েবে আমীর পদে নেই। এ নিয়ে ‘অরাজনৈতিক’ এ সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল ও কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে।
জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার নগরের লালদীঘি মাঠে হেফাজতের দুই দিনব্যাপী ‘শানে রেসালাত সম্মেলনে’ আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির একাংশের সভাপতি মুফতি ইজহারকে। এনিয়ে হেফাজতে থাকা নেজামে ইসলামী পার্টির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মুফতি ইজহারের ছেলে হেফাজতের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুফতি হারুন বিন ইজহার বিষয়টা নিয়ে গেল রোববার ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে হেফাজত নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে।
লালদীঘি মাঠে হেফাজতের সম্মেলনে যোগ দিতে হাটহাজারী থেকে আসার পথে সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি গত শুক্র ও শনিবার দুই দিনই লালখান বাজার মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি সেখানে মুফতি ইজহারের সাথে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর তারা একসাথে বসে ভাত খান। পরে তারা একান্তে আলাপচারিতা করেন।
লালদীঘি মাঠে আয়োজিত হেফাজতের শানে রেসালাত সম্মেলনের ব্যবস’াপনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহি। তিনি ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি গতকাল সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘হেফাজতের আমীর ও মহাসচিবের নির্দেশে শানে রেসালাত সম্মেলনে মুফতি ইজহারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তারা যাদের আমন্ত্রণ জানাতে বলেছেন আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
মুফতি ইজহারকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ জানতে চাইলে এ হেফাজত নেতা বলেন, ‘তিনি তো এখন হেফাজতের কোনো দায়িত্বে নেই। তিনি নিজেকে হেফাজতের নায়েবে আমীর হিসেবে পরিচয় দিলেও সংগঠনের এ পদে তার নাম নেই।’
মুফতি ইজহারের হেফাজত থেকে ছিটকে পড়ার কারণ জানতে চাইলে মাঈনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘তিনি বিগত সময়ে হেফাজতের সম্মেলনে এসে বিভিন্ন বিতর্কিত কথাবার্তা বলেছেন। হেফাজতকে বিতর্কিত করেছেন। তাই হেফাজতের আমীর ও মহাসচিব তাকে সংগঠনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।’
২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর লালখান বাজার মাদ্রাসায় ‘বোমা বিস্ফোরণের’ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২৭ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মুফতি ইজহার।
হেফাজতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মুফতি ইজহারের হেফাজত থেকে বাদ পড়া আর নায়েবে আমীরের পদে না থাকার বিষয়টি সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অনেকেই জানেন না। যে কারণে লালদীঘি মাঠে রেসালাত সম্মেলনে তার উপসি’তি না দেখে সম্মেলনে আসা হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল জাগে।
মুফতি ইজহারের ছেলে হেফাজতের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুফতি হারুন বিন ইজহার বিষয়টা নিয়ে রোববার ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।
হেফাজতের আমীরের নির্দেশে মুফতি ইজহারকে লালদীঘি মাঠে সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টিকে ‘জঘন্য মিথ্যাচার ও সাজানো গল্প’ উল্লেখ করে হারুন ইজহার স্ট্যটাসে লিখেন-মুফতি ইজহার লালবাগের (ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসা) কেউ নয় বলে এতো বড় একজন মজলুম জননায়কের প্রতি চরম বেয়াদবী করা হয়েছে। লালদীঘি মাঠে হেফাজতের সম্মেলন আয়োজনে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলেন তিনি।
তিনি তার স্ট্যাটাসে ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর উত্তরাধিকারের নামে চট্টগ্রামে যারা রাজনীতি করে তারা হেফাজতের আড়ালে ওই সংগঠনটির দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেন।
ফেইসবুকে হারুন ইজহারের এ স্ট্যটাস নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘তিনি ফেইসবুকে এ স্ট্যাটাস দিয়ে সংগঠনের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টা নিয়ে শীঘ্রই সংগঠনের কার্যনির্বাহীর বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে তার কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন