হৃদযন্ত্রের ব্লক সারানোর রিংয়ের হঠাৎ আকাল

বাতিল হচ্ছে অপারেশন

বিবিসি বাংলা

দাম নির্ধারণে সরকারি এক উদ্যোগের পর হৃদরোগের চিকিৎসায় হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে যে ধাতব স্টেন্ট বা রিং পরানো হয় – তার ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে গতকাল (বুধবার) ধর্মঘট ডেকে বসেছিলেন।
ফলে রিং এর অভাবে অপারেশন কক্ষ থেকে রোগি ফিরিয়ে আনার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতাল জাতিয় হৃদরোগ ইন্সিটিউট ও হাসপাতালে বুধবার সকাল দশটায় ঘটে বিরল ঘটনা। হাটের ব্লক সারাতে এক মহিলাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় কিন’ সব প্রস্তুতির পর ডাক্তাররা তাকে চলে যেতে বলেন।
ঐ মহিলা জানান, তাকে বলা হয়েছে ধর্মঘটের জন্য রিং পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে ঢাকায় আরো অন্তত দুইটি হাসপাতালে গতকাল করোনারির স্টেন্ট বা রিং পরানো সম্ভব হয় নি। পূর্ব নির্ধারিত এসব অপারেশন বাতিল হয় শেষ মুহুর্তে কিংবা অপারেশন থিয়েটার থেকে ফেরত আসেন রোগিরা।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল কয়েকজন রোগির অপারেশন রিং এর অভাবে স’গিত করার পর উদ্বেগ ও আতঙ্ক রয়েছে অন্যান্য রোগির মধ্যেও। সাথে নতুন দাম নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি।
নড়াইল থেকে আসা এক রোগির আত্মীয় আব্দুর রউফ বিবিসিকে বলেন, “আমরা তো জানি না কোনটার কত দাম। হাসপাতালের কোথাও লেখা নেই। কেউ যদি বলে এটার দাম এক লাখ তাই আমাকে দিতে হবে, আমার তো কোন উপায় নেই।”
বিপত্তির সুত্রপাত মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ক সংবাদ ব্রিফিং থেকে ।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন চারটি অনুমোদিত আমদানিকারক কম্পানি ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে তাদের প্রতিটি মেডিকেটেড রিংয়ের দাম ৫০ হাজার ও নন-মেডিকেটেড রিং ২৫ হাজার টাকা করে বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার আবেদন করেছে।
এর পর কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর হয় রিং এর দাম সর্বনিম্ন ২৫ থেকে ৫০ হাজার করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।
প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা গতকাল হঠাৎ করে স্টেন্ট সরবরাহ বন্ধ করে দেন।
তবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গাজী শাহীন বিবিসিকে বলেছেন, রোগিদের ভোগান্তির জন্য নয় বরং দাম নিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে সেটা দূর করতেই দুই ঘণ্টার সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
তিনি বলেন রিং পূর্বের দামেই এখন পাওয়া যাবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাথে রবিবারের এক বৈঠকে দাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানা যাচ্ছে , দেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার হার্টের রিং পরানো হয়।
রিং এর মান ও ধরনের উপর দাম নির্ধারিত হয়, নির্দিষ্ট করে দাম নির্ধারিত নেই। এখন পর্যন্ত মোট ২১টি প্রতিষ্ঠান ৪৭ ধরনের করোনারি স্টেন্টের (রিং) রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে।