হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা আমিরাতের দ্বার খোলার অপেক্ষা!

কামরুল হাসান জনি, ইউএই

আর্থিক স্বচ্ছতার আশায় ২০০৩ সালে প্রাইভেট ভিসা নিয়ে আমিরাতে পাড়ি জমান আবু তাহের। মরুময় মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানের চিন্তা অন্যদিকে নিজের নাম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার তাড়না পেয়ে বসে তাকে। ভিসা পরিবর্তন করে ২০০৭ সাল প্রতিষ্ঠা করেন এমজিএম জেনারেল কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি নামের প্রথম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান অনুজ এমরাকে। সেই থেকে দুই ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা, সততা ও কর্ম দক্ষতায় একে একে গড়ে তুলেন আরো ৬টি কোম্পানি। এসব কোম্পানিতে দেশি-বিদেশি মিলে কাজ করছেন ৫ শতাধিক শ্রমিক। বাংলাদেশিদের জন্যে আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে শ্রমিক চাহিদা থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা বাড়বে দ্বিগুণ। এমনই মন্তব্য আবুধাবি এমজিএম জেনারেল কন্ট্রাক্টিং এলএলসি’র এমডি আবু তাহেরের।
কর্মের সন্ধানে ১৪ বছর আগে আমিরাতে যান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সফভাটা গ্রামের আবু তাহের। বিদেশ বিভুঁইয়ে অর্থনৈতিক হাল ধরতে ৩ বছরের মাথায় চালু করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশ থেকে ছোট ভাইকে নিয়ে ব্যবসার গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত প্রসার ঘটান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠা করেন এমজিএম জেনারেল কন্ট্রাক্টিং এলএলসি, গ্রেট ইফোর্ট জেনারেল কন্ট্রাক্টিং এলএলসি, ছান্নি জেনারেল মেইন্টেনেইস, গোল্ডেন মেশন জেনারেল কন্ট্রাক্টিং, শাহ আমানত জেনারেল মেইন্টেনেইস, ফার্স্ট ইউনার জেনারেল মেইন্টেনেইস নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কর্মী সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও চলছে পাকিস্তান, ভারতসহ ভিনদেশি শ্রমিকদের দ্বারা। ভিনদেশি শ্রমিকরাও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন আবু তাহেরের কোম্পানিতে।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘মালিঃঃক অনেক ভালো, বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। তিনি আমাদের কোন সমস্যায় রাখেন না। যখন যা প্রয়োজন তিনি পূরণ করেন। সময়মত বেতনও পরিশোধ করেন।’ কিন’ আমিরাতের শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকের দারুণ অভাববোধ করছেন মালিক পক্ষ। বাংলাদেশিদের জন্যে নতুন ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় ব্যবসায় এমনটা বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। এমনকি সবগুলো প্রতিষ্ঠানে দ্বিগুণ শ্রমিক চাহিদা থাকা সত্ত্বে সম্ভবনার দ্বার রুদ্ধ হয়ে আছে বলে জানান আবু তাহেরের অনুজ এমরান। ভিসা খোলার ব্যাপারে কূটনৈতিক ভূমিকা জোরদারের দাবিও করেন তিনি।
৬টি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কার্যক্রম চললেও ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকার বিষয়টিকে দুর্ভাগ্য বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানের এমডি আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘স্বদেশি শ্রমিকরা সবদিকে যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও নিজেদের শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় এখন ভারত ও পাকিস্তানের কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। তবে প্রবাসে যেভাবে শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশের সুনাম অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে, তেমনি নিজের দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমেও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।’ এক্ষেত্রে দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্র ও প্রবাসীদের জন্যে নিরাপদ সুযোগ তৈরি করার কথাও জানান তিনি। দীর্ঘদিনের শ্রমিক ভিসা জটিলতা শুধু আবু তাহেরের কোম্পানিতেই নয়, এমন হাজারও কোম্পানি তাকিয়ে আছে আমিরাতের দ্বার খোলার অপেক্ষায়। আবার নিজেদের দেশেও নিরাপত্তাসহ বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন আবু তাহেরের মত রেমিটেন্স সৈনিকরা।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্যে নতুন ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ মালিক পরিবর্তন ব্যবস’া। দীর্ঘ মেয়ািদ এই ভিসা জটিলতার অবসান না হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা, কর্মস’লে হচ্ছেন তারা নানামুখী হয়রানির শিকার।