হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন

জিয়াবুল হক, টেকনাফ

টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শৈত্য প্রবাহের ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চারিদিকে বইছে হিমেল হাওয়া। এতে বিপাকে পড়েছে গরীব, দুস’ ও নিম্ম আয়ের মানুষেরা। ছোট বড় সবার মাঝে প্রচন্ড শীতের কনকনে কাঁপন দেখা দিয়েছে গত ১১ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪ টা থেকে।
বিভিন্ন গ্রাম থেকে টেকনাফ পৌর শহরে আসা অনেক বয়স্ক লোক বলেন, ১১ জানুয়ারি ভোর রাত থেকে ভয়াবহ শৈত্য প্রবাহের হিমেল বাতাস বইতে শুরু হয়েছে। এতে প্রচন্ড শীতের কবলে পড়েছে টেকনাফ উপজেলাবাসী। তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে দ্রুত। শীতের কাঁপনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এধরনের শীত গত ৪০/৫০ বছরে দেখা যায়নি বলে অভিমত স’ানীয় বয়োবৃদ্ধদের। অন্য যে কোন সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন স’ানে বেশি শীত পড়লেও টেকনাফের মানুষ কখনো এধরনের শীতের কবলে পড়েনি।
অতিরিক্ত শীতের কারণে বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের পেশাগত কাজে যোগ দিতে হচ্ছে দেরিতে। টেকনাফ উপজেলা বিভিন্ন জায়গায় খবর নিয়ে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোসহ বিভিন্ন স’ানে তীব্র শীতের প্রকোপে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ।
ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া রোগে ভুগছে বেশির ভাগ শিশুরা। ঘন কুয়াশার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার শাক-সব্জি ও বীজতলাগুলো। তার পাশাপাশি সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা।
প্রচন্ড শীতে তাদের বেড়ে গেছে চরম দুঃখ দুর্দশা। কারণ, তারা সময় মত কাজে বের হতে পারছেনা। অনেক রিক্সা চালক শীতের ভয়ে রিক্সাও চালাতে চায় না। এদিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে নতুন বছরের লেখা-পড়া। দেখা গেছে কিছু কিছু শিশু শিক্ষার্থী সময় মত স্কুলে আসলেও অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখনো অনুপসি’ত রয়েছে। এদিকে টেকনাফ পৌরসভার মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে শীতের কাপড় কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এ সুযোগে দোকানদাররা শীত বস্ত্রগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এতে নিম্ন আয়ের মানুষরা টাকার অভাবে শীতবস্ত্র ক্রয় করতে পারছে না।
টেকনাফের সুশীল সমাজের লোকজন মনে করছেন, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা হিমেল হাওয়ার শৈত্য প্রবাহের আংশিক টেকনাফে এসেছে বিধায় শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতের প্রকোপ।
টেকনাফ উপজেলার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে রোহিঙ্গা রোগীদের সংখ্যা বেশি। উন্নতমানের চিকিৎসা না থাকায় এসমস্ত রোগী প্রাইভেট ক্লিনিক ও ফার্মেসিতে নিজ খরচে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। তার পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের কক্সবাজারে রেফার করা হচ্ছে। আর যাদের এদুটোর মধ্যে কোনটার সামর্থ্য নেই, তাদের কঠিন পরিসি’তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন জানান, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় গরীব মানুষের মাঝে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরন হয়েছে, এবং নিজেদের তহবিল থেকেও দেওয়া হচ্ছে।