‘হাসিনা : আ ডটার’স টেল’ হাউসফুল চট্টগ্রামে

সুপ্রভাত ডেস্ক

‘মায়ের একটা খুব আতঙ্ক ছিল সবসময়। মা শুধু বলত যে, ওরা ছাড়বে না। কারা সেটা উলেস্নখ করেনি। ছাড়বে না।’ ‘মোশতাককে তুই চিনিস! ও তো সুযোগ পেলে আমার বুকে ছুরি মারবে। আব্বা জানতেন কে কী করতে পারে।’ খবর বাংলানিউজ।
‘হাসিনা : আ ডটার’স টেল’ চলচ্চিত্রের সংলাপ এগুলো। বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে এ রকম অনেক সংলাপে চিত্রিত হয়েছে পূর্ব পাকিসত্মান থেকে বাংলাদেশ পর্যনত্ম ইতিহাসের অজানা অনেক অধ্যায়। যা বিশ্ববাসী আগে দেখেননি, শোনেননি। শুধু তিনি নন, করম্নণ কিছু ইতিহাস, সাড়্গ্য উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার কণ্ঠেও।
সঙ্গে ছিল অজস্র প্রামাণ্য দলিল, নথি, চিঠি, ছবি, ভিডিও, সাড়্গাৎকার আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের ভাষণ, নিজামউদ্দিন আউলিয়ার (র.) মাজারে একই তারিখে বাবা ও মেয়েদের জেয়ারত, পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-, দুই বোন বিদেশে টেলিফোনে খবর পাওয়া, সেই থেকে টেলিফোন ভীতি, ক্যান্ডেল নাইটের পরদিন সকালে ঢাকার খবর পাওয়া মাত্র রাষ্ট্রদূতের ভিন্নরূপ, সীমানত্ম পাড়ি দেওয়া, ভারতে ছদ্মনামে আশ্রয় নেওয়া, ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতা, দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত করা, দেশে ফেরা, সংগঠনের হাল ধরা, টুঙ্গিপাড়া, ৩২ নম্বর বাড়ি, শেখ জামাল, শেখ কামাল, শেখ রাসেলের স্মৃতি, জয় ও পুতুলের বেড়ে ওঠা, নূর হোসেনের শেষ ইচ্ছে, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, পঞ্চাশের দশকে তিন মালস্নার নৌকায় চড়ে ঢাকায় ফেরার গল্প, এদেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রত্যয় ইত্যাদি। এসব দেখতে দেখতে কারও চোখ ভিজে যায়, কেউ আবার হারিয়ে যান অন্য জগতে। ‘মা আমার সাধ না মিটিলো’ গানটি ভিন্নমাত্রা দিয়েছে এ চলচ্চিত্রকে।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে কঠিন ইতিহাসের হৃদয়গ্রাহী উপস’াপনার পাশাপাশি এ চলচ্চিত্রে শেখ হাসিনাকে দর্শক দেখবেন একজন মা, একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন দাদি-নানি আর একজন মমতাময়ী বাঙালি নারী হিসেবে। যিনি পরিবারের শিশুদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলছেন, ভ্যানগাড়িতে চড়ছেন, মেহমানদের জন্য রান্না করছেন, ছোট বোনকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখছেন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার ফিনলে স্কয়ারের সিলভার সিনেপেস্নক্সে ছবিটি দেখার জন্য উপচেপড়া ভিড় হয় নানা বয়সী দর্শকের। সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন ১১টায় প্রদর্শিত হবে ৭০ মিনিট ১ সেকেন্ডের ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রটি।
বাবা জামশেদুল আলম চৌধুরীর হাত ধরে এসেছিল সদ্য জেএসসি পরীড়্গা দেওয়া হুমায়রা আলম চৌধুরী। সে জানায়, ‘বইয়ে আমরা যে ইতিহাস পড়েছি সেটিই চলচ্চিত্রে দেখলাম। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেক কিছু জানলাম। চলচ্চিত্রটি দেখতে পারা আমার জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা।’
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যাপল বক্স ফিল্মস্ এর পিপলু খান। সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পড়্গে ডকুফিল্মটি প্রযোজনা করেছেন রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও নসরম্নল হামিদ বিপু। চিত্রগ্রহণ করেছেন সাদিক আহমেদ। সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন এবং সঙ্গীতায়োজনে সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র।