হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে

দেউড়ি ডেস্ক . ছবি: কমল দাশ
4

হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে, দেখা হবে তোমার-আমার অন্য দিনের ভোরে’। হ্যাঁ, প্রায় সবারই বন্ধু আছে আর বন্ধু থাকলেই দেখা হবে, কথা হবে, হবে অনাবিল আড্ডা। হৃদয়ের সবটুকু আবেগ নিংড়ে, সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে যে জায়গায় কথা বলা যায়, তা হলো বন্ধু আড্ডা। আর এই আড্ডাটা যদি হয় বন্ধুদের একটি বিশেষ দিনে, তাহলে কোনো কথাই নেই। প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধু দিবস পালিত হয়। এ বছর দিনটি পালিত হল গতকাল ৬ আগস্ট। দিনটি সামনে রেখে অনেকেই করেছেন অনেক আয়োজন, বাস্তবায়ন করেছেন নানা পরিকল্পনা। বর্তমান সময়ে আমরা নানা কাজে ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার মধ্যেও দিনটিতে বন্ধুর হাতে হাত রেখে হেঁটেছেন কেউ, মন খুলে জমানো কথাগুলো খুলে বলেছেন বন্ধুদের।
সুসময়ে বন্ধু বটে হয়, অসময়ে কেউ কারো নয়’- এই খনার বচনকে উপেক্ষা করতে পারলেই প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে বন্ধুত্বের ধরন পাল্টে গিয়েছে বহুলাংশে। যুগ পাল্টালেও বন্ধুত্বের বন্ধন আদি ও অকৃত্রিম। প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মানুষে-মানুষে, ছেলে-মেয়েতে, ছাত্র-শিক্ষকে, বাবা-মায়ে, পাড়া-প্রতিবেশীতে। জীবনের পথ পরিক্রমায় শৈশব, কৈশোর, ছাত্রজীবন, কর্মক্ষেত্রে, সংসার ও সমাজ জীবনে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে অনেকের সাথে। প্রকৃত ও যোগ্য বন্ধু নির্বাচন একটি সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনের জন্য প্রয়োজন। বন্ধু নির্বাচনে ভুল করলে জীবনে ছন্দপতন ঘটে। ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই উচিৎ সঠিক ও যোগ্য বন্ধু নির্বাচন করা। যে যতটুকু ভার বহন করতে পারে, তার ততটুকু বোঝা উত্তলন করা উচিৎ।
বন্ধুত্বের ইতিহাস প্রায় মানব সভ্যতারই সমান বয়সী। যুগ-যুগ ধরে চলে আসা এই অপূর্ব সম্পর্কটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যই মূলত বন্ধু দিবসের জন্ম।
বন্ধু দিবসের ইতিহাস
প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার সারা বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস। ১৯৩৫ সাল থেকেই বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে আমেরিকাতে। জানা যায় ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি সে সময় দারুন আলোড়ন তোলে। এরপরই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষেই আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে রীতিমতো আইন প্রণয়ন করে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বিশ্ব বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সেই সূত্রে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার এখন বন্ধু দিবস হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দুনিয়া জুড়ে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র ‘উইনি দ্য পোহ’কে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাম্বাসেডর অব ফ্রেন্ডশিপ’ মনোনীত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের অনুকরণ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব বন্ধু দিবস।
প্রথম বন্ধুত্ব কবে হয়েছিল, কীভাবে হয়েছিল সেটি আবিষ্কার করার চেষ্টা এখন পন্ডশ্রম। তবে আদি পিতা আদমের সঙ্গে তাঁর সঙ্গিনী হাওয়ার সখ্যই আমরা পৃথিবীর প্রথম বন্ধুত্ব হিসেবে ধরে নিতে পারি। বন্ধু দিবসে কীভাবে আপনার বন্ধুকে আপনি সম্মানিত করবেন? বন্ধু যদি আপনার স্ত্রী কিংবা বান্ধবী হয় এ ক্ষেত্রে আপনি নির্ঘুম একটি রাত কাটিয়ে দিতে পারেন। বন্ধু দিবসের দিনে বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে মজুদ রাখুন শুকনো খাবার, ফ্লাক্সভর্তি কফি নিয়ে শ্রেফ গল্প-গুজবে কাটিয়ে দিতে পারেন দিনটা। যেতে পারেন কোন পার্কে, নদীর ধারে কিংবা মলে। কোনোটাই যদি পছন্দ না হয় তাহলেও ভাবনা নেই। নিজেই ভেবে বের করে ফেলুন একটা পদ্ধতি। কারণ কোন বাধা ধরা নিয়মে নয়, বন্ধুকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানানোর যে কোন পদ্ধতি তে আপনি বন্ধুত্বের রাখী বন্ধন করতে পারেন।