হালিশহরে কর্মচারীর হাতে নারী ব্যবসায়ী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর হালিশহর হাউসিং এস্টেট এলাকায় লাকি আক্তার (৩২) নামে এক নারী ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় হালিশহর কে ব্লক এলাকার তিন নম্বর রোডের দুই নম্বর লেইনের চার নম্বর বাড়ির গুদামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাকির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জে। তার স্বামী একজন শ্রীলংকান নাগরিক। তার নাম নাস সু নাগাম। তিনি ইপিজেড এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা। ১২ বছর ধরে হালিশহর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন লাকি। তার দুই মেয়ে দুই ছেলে। ছোট মেয়ের বয়স দুই মাস।
স’ানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত লাকি আক্তার একজন স্বাবলম্বী নারী ছিলেন। ফাস্ট ফুডের পাশাপাশি বুটিক হাউসও ছিল তার। লাকির ব্যবসায়িক সব হিসেব রাখতো খালেদ। সোমবার হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে ব্যবসার হিসেব চাইলে খালেদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় লাকির। এ ঘটনার জের ধরে হয়তো লাকিকে খুন করে পালিয়েছে খালেদ। স্বামী, ছোটভাই ও চার সন্তানকে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অদূরে একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতেন লাকি আক্তার।
গুদামের জমিদার লুৎফুল হায়দার জানান, এক বছর আগে তার মালিকানাধীন একটি দোকান ভাড়া নেন লাকি আক্তার। দোকানটির নাম ‘কে আই স্পাইস ক্যাফে’। দুই মাস আগে এ দোকানের পেছনে অবসি’ত একটি বাসা তার (লুৎফুল হায়দার) কাছ থেকে গুদাম হিসেবে ভাড়া নেন লাকি। ওই গুদামে ফাস্ট ফুডের বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও বুটিক সরঞ্জাম রাখতেন লাকি। এ গুদামেই ঘটে নির্মম হত্যাকাণ্ড।
লুৎফুল হায়দার জানান, ঘটনার রাতে দশটার দিকে তিনি চলে যান গ্রামের বাড়ি মিরসরাই এলাকায়। এর আগে বিকালের দিকে প্রতিদিনের মতো দুই মাস বয়সী কন্যা সন্তান কোলে নিয়ে নিজের দোকানে আসেন লাকি। এরপর কোনো এক সময় লাকি ও খালেদ ঢুকে যান গুদামে।
নিহত লাকির ছোটভাই মামুনের
বরাত দিয়ে লুৎফুল আরও জানান, রাত ১১টার পরও বাসায় না ফেরায় বোনের খোঁজে গুদামে আসেন মামুন। গুদামে ঢোকার মূল ফটকে নক করতেই ফটক খুলে দেয় খালেদ। এসময় লাকি কোথায় জানতে চাইলে খালেদ বলে, ‘তোমার বোন বাসায় চলে গেছে’। এ কথা শুনে মামুন বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এদিকে খালেদও চম্পট দেয়। দুই-তিন মিনিট পর মামুনকে ফোন করে খালেদ বলে, ‘আমি তোমার বোনকে মেরে ফেলেছি। তবে তার বাচ্চাকে মারিনি। তোমার বোনের লাশ গুদামে পড়ে আছে। সেখানে তার বাচ্চাও আছে।’ এসময় দ্রুত গুদামে গিয়ে মামুন দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। এক পর্যায়ে বাসার পেছনের দিকে গিয়ে জানালা দিয়ে মামুন দেখেন, তার বোনের রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। মায়ের লাশের পাশে কাঁদছে দুই মাস বয়সী লাকির কন্যা শিশু। এরপর খবর দিলে ঘটনাস’লে গিয়ে গুদামের তালা ভেঙে লাকির লাশ ও তার শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়দুল হকের বলেন, লাকি আক্তারকে ভারী লোহার বস’ দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে পালিয়েছে খালেদ নামের এক যুবক। সে ওই নারীর মালিকানাধীন ফাস্ট ফুডের দোকানে এক বছর ধরে কর্মরত ছিল। খালেদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়ায়।
তিনি আরও বলেন, ‘দোকান কর্মচারী খালেদের সাথে লাকির পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে খুনের এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।’
ওসি এসএম ওবায়দুল হক জানান, লাকি খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার ছোটভাই মামুন বাদি হয়ে হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে খালেদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাকির মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।