‘হালাল পণ্য সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা দেবে সরকার’

সুপ্রভাত ডেস্ক

হালাল পণ্য সমপ্রসারণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হালাল পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।’ খবর বাংলাট্রিবিউন’র।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল সনদের মানদণ্ড ও প্রতিবন্ধকতা: বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ আল-মেহেরি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে। হালাল খাদ্য মানুষের জীবন ধারণের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ, যা মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও গ্রহণ করে থাকে।’ তিনি হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিডার নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ ভাগই মুসলমান, এর ফলে হালাল পণ্য উৎপাদান ও রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।’
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এর ফলে আমাদের দেশে হালাল পণ্য উৎপাদন ও সারাবিশ্বে এ ধরনের পণ্যের বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।’

তিনি জানান, বর্তমানে বৈশ্বিক ইসলামিক বাজার মূল্য প্রায় দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পৃথিবীর মোট খরচের প্রায় ১১.৯% শতাংশ। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সারাবিশ্বে হালাল পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে ও প্রতিনিয়ত তা বাড়ছে।’

ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে হালাল পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ড এগিয়ে রয়েছে, কিন’ মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবেও আমরা ভালো অবস’ানে যেতে পারিনি।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ সাইদ বলেন, ‘মুসলিম প্রধান দেশগুলোর পাশাপাশি অমুসলিম জনবহুল দেশগুলোতে হালাল পণ্যের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমে বৃদ্ধির ফলে হালাল পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে।’
তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি মার্কেট রিসার্চ-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সারা পৃথিবীতে হালাল পণ্যের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে এটি প্রায় ১০.৫১ ট্রিলিয়নে এসে দাঁড়াবে।
সেমিনারে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠা আরএসিএস কোয়ালিটি সার্টিফিকেটস ইস্যুয়িং সার্ভিসেস এলএলসি-এর বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান ওসামা ইমাম মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন।