হার দিয়ে শুরু হায়দ্রাবাদের

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

৩২তম জন্মদিনে সাকিব আল হাসানকে জয় উপহার দিতে চেয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ডেভিড ওয়ার্নারের দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও আন্দ্রে রাসেল ঝড়ে সেই চাওয়া পূরণ হলো না তাদের। ডেথ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানের বিস্ফোরক পারফরম্যান্সে সাকিবের সাবেক দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে তারা হেরেছে ৬ উইকেটে। টস জিতে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৮১ রান করে গতবারের রানার্সআপ হায়দ্রাবাদ। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮৩ রান করে কলকাতা।
রাসেল ঝড়ে যখন হারের শঙ্কায় হায়দ্রাবাদ, তখন জয়ের নায়ক হতে পারতেন সাকিব। শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল কলকাতার। বল হাতে পান সাকিব। প্রথম বলে ওয়াইড দেন তিনি। পরের বলে দৌড়ে একটি রান নেন রাসেল। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুটি ছক্কায় সাকিবকে হতাশ করেন শুভমান গিল।
এদিন ব্যাট করার সুযোগ পাননি সাকিব, বল হাতে প্রথম ওভারেই উইকেট নেন। প্রথম দুই ওভারে ১৩ রান দিলেও তৃতীয় ওভারে ১৫ রান তোলে হায়দ্রাবাদ। আর শেষ ওভারে ১৪ রান করে কলকাতা। সাকিব ৩.৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ইডেন গার্ডেনে কলকাতার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নামে হায়দ্রাবাদ। ওপেনিংয়ে জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে নামেন ডেভিড ওয়ার্নার। এক মৌসুম বাদ দিয়ে আইপিএলে ফিরে ব্যাট হাতে দুরন্ত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। উদ্বোধনী জুটিতেই দলীয় স্কোর একশ পার করেন ওয়ার্নার। পিযুষ চাওলার কাছে বোল্ড হন বেয়ারস্টো। ৩৫ বলে ৩৯ রানে তিনি বিদায় নিলে ভাঙে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই জুটি গড়ার পথে আন্দ্রে রাসেলকে ৬ মেরে আইপিএলে ৩৭তম ফিফটি পান ওয়ার্নার। সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন তিনি। কিন’ রাসেল তাকে বিদায় করেন ১৫ রানের আক্ষেপে রেখে। ৯ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ছিল তার ৫৩ বলে ৮৫ রানের সেরা ইনিংস। রাসেল পরের ওভারে ইউসুফ পাঠানকে (১) বোল্ড করলে শেষ দিকে বিজয় শঙ্করের ব্যাটিং ঝড় স্বস্তিতে রাখে হায়দ্রাবাদকে। ২৪ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন শঙ্কর। লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাকিবের কাছে ওপেনার ক্রিস লিনকে হারায় কলকাতা। ১১ বলে ১ ছয়ে ৭ রানে রশিদ খানের ক্যাচ হন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান। এরপর নিতিশ রানা ও রবিন উথাপ্পার ৮০ রানের জুটি শুরুর ধাক্কা সামলে নেয়। ৩৫ রানে উথাপ্পাকে বোল্ড করে জুটিটি ভাঙেন সিদ্ধার্থ কৌল। পরের ওভারে কলকাতা অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক ২ রানে আউট হন। নিতিশের ৩৫ বলে ফিফটি কলকাতাকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে। ১৬তম ওভারে ফ্লাডলাইটের সমস্যার কারণে কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল ম্যাচ। ১৪ মিনিট পর খেলা শুরু হলে প্রথম বলেই নিতিশকে এলবিডাব্লিউ করেন রশিদ। ৪৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছয়ে ৬৮ রান করে নিতিশের বিদায়ের পর ঝড় তোলেন রাসেল। তার বিশাল সব ছক্কায় শেষ ওভারে জিতে যায় কলকাতা। ১৮ ও ১৯তম ওভারে ৪০ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন তিনি। তাতে শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল স্বাগতিকদের। ইনিংসের শেষ ওভারে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে দুটি ছয় মেরে লক্ষ্য পূরণ করে কলকাতা। শেষ ২৫ বলে ৬৫ রান করে তারা, শেষ তিন ওভারে ৫৩ রান! আইপিএলের ইতিহাসে শেষ তিন ওভারে এত রান করা জেতা প্রথম দল কলকাতা। ১৯ বলে চারটি করে চার ও ছয়ে ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন রাসেল। গিল ১০ বলে ১৮ রানে খেলছিলেন। সাকিব, সন্দীপ শর্মা, রশিদ ও সিদ্ধার্থ একটি করে উইকেট নেন। খবর বাংলাট্রিবিউন’র।