হাদীসে নবভীর আলোকে রোযার ফযীলত

ইসলামী জীবনে রোযার রয়েছে অসংখ্য ফযীলত। নিবিষ্ট মনে ইবাদতের নিয়ৎ সিয়ামের কৃচ্ছ্র সাধন পারে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে। প্রিয় নবীর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীতে রোযার ফযীলত বর্ণিত অসংখ্য। স্বল্প পরিসরে বিস্তৃত বর্ণনা অসম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফযীলতের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যায়, যাতে মুমিন ভাইবোনদের আগ্রহ বাড়ে।
রোযা অতীতের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। সায়্যিদুনা ইমাম বুখারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) স্বীয় গ্রনে’ লিপিবদ্ধ করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সুবিখ্যাত এ হাদীসখানা।
অনাগত জীবনে সংঘটিতব্য বিষয়ের সংবাদদাতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে পুণ্য লাভের প্রত্যাশায় মাহে রমযানের রোযা পালন করে, তার আগেকার গুনাহ্ মাফ করে ঁ ২য় পৃষ্ঠার ১ম কলাম
দেয়া হয়। এই হাদীসের অপর অংশে মাহে রমযানে রাতের বেলা বিশেষ নামাযে (অর্থাৎ তারাভীহ্র) দাঁড়ানোর এবং কদরের রাতে নামাযে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ আছে। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে ঈমান এবং ইহ্তিসাব শর্তযুক্ত রয়েছে। ঈমান’র শর্ত যে আমল গ্রহণযোগ্যতার জন্য প্রযোজ্য হবে। তথাপি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করার উপকারিতা এটাই যে, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্র যতরকম ফযীলত ও মর্যাদার ঘোষণা দিয়েছেন তার সব কটি বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সকল আদেশ নিষেধ রাসূলের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে। কুরআনেও তাই বলা হয়েছে যে, রাসুল তোমাদের যা (আদেশ) দেন, তাই (চূড়ান্ত জেনে) গ্রহণ করো। আর যা তিনি বারণ করেন, তা থেকে বিরত থেকো।
অবএব, রোযার ফযীলত পেতে হলে, তিনি যেভাবে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন তার যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় তার কথায় বিশ্বাসের প্রতিফলন হবে না। পরিণামে প্রতিদানও মিলবে না। আর যে প্রতিদান (যেমন এখানে মাগফিরাত) তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মিলবে-নিশ্চিত এ প্রত্যাশা পূর্ণমাত্রায় মনে রাখাই হলো ইহ্তিসাব।
ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে রমযানের মাসে রোযা পালন করা এবং তারাভীহ্ সহ অন্যান্য ইবাদতগুলোর প্রতি যত্নবান হতে পারলে বান্দাহ্র গুনাহসমূহের নিশ্চিত কাফফারা হয়েই যাবে। এই মাগফিরাতের পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে, বান্দাহ্ নবজাতক শিশুর মতই হয়ে যাবে। হযরত আবদুর রহমান বিন আউস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও প্রতিদান প্রাপ্তির নিষ্ঠাসহ মাহে রমযানের রোযা পালন করবে, সে গুনাহর কালিমা থেকে এমন মুক্ত ও পাক-সাফ হয়ে সেই দিনের মত হয়ে যাবে, যেদিন মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। (সুনানে নাসাঈ)
হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের বদলা দশ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হবে, আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, ‘কিন’ রোযা আমারই জন্য, এর বদলা আমি নিজ কুদরতের হাতেই দেবো। যেহেতু, আমার বান্দা আমারই কারণে নিজের আকাঙ্ক্ষা ও খানা-পিনা পরিহার করে। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজা) আমাদের উচিৎ, শুধু আল্লাহরই কাছে এর প্রতিদানের প্রত্যাশা রাখা।