হাটহাজারীতে তলিয়ে গেছে ৪৫টি গ্রাম

সংবাদদাতা, হাটহাজারী

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও হালদা নদীর পাড় ভাঙনের কারণে হাটহাজারী উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অন্তত ৪০/৪৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে এসব এলাকায় ঈদ আনন্দ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায়
১০/১১টি ইউপির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পানি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ি ও মার্কেটগুলোর ভেতর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কগুলোর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে জন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন পূর্ব ফরহাদাবাদ বংশাল, পূর্ব ধলই, কাজীপাড়া, সেকান্দর পাড়া, মাইজ পাড়া, হাধুর খীল, পূর্ব এনায়েতপুর, ফেসকারহাট, জেলে পাড়া, উত্তর সাদেক নগর, কদল পাড়া, মনোহর বাড়ী, কুমারীকুল, বালুখালী, সিকদার পাড়া, গুমান মর্দন, মাস্টার পাড়া, মৎশুদ্ধি পাড়া, রোদ্র পুর, কাজিখীল, মুহাম্মদপুর, ফটিকা, জাফরাবাদ, রহিমপুর, ইছাপুর, ছিপাতলী, বাঘের ঘোনা, উত্তর মেখল, মধ্যম মেখল, ভবনাীপুর, মধুর ঘোনা, মাছুয়া ঘোনা, রহমত ঘোনা, বাড়িয়া ঘোনা, উত্তর মাদার্শা, মধ্যম মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বাতুয়া, খন্দকিয়া, বুড়িশ্চর, রশিদ বাড়ী, পৌর এলাকার ফটিকা, মীরেরহাট, মোহাম্মদপুর, মুন্সির মসজিদ, পূর্ব দেওয়ান নগর, কাচারী সড়কসহ প্রভৃতি এলাকার লোকজন পানিবন্দি অবস’ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।
স’ানীয়রা জানিয়েছে, বালুখালী সড়ক, রাজা মিয়া চৌধুরী সড়ক, গুমান মর্দন ডিসি সড়ক, ধলই গুমান মর্দন সড়ক, আজিজিয়া মজিদিয়া সড়ক, মুফতি ফয়জুল্ল সড়ক, নূর মোহাম্মদ সড়ক, হাজী ইউছুপ সড়ক, নেয়ামত আলী সড়ক, ফতেয়াবাদ রাম দাস মুন্সির হাট সড়ক, বটতলী সাইনবোর্ড সড়ক, বটতলী মাদার্শা সড়ক, আকবরিয়া মদুনারঘাট সড়ক, ফতেয়াবাদ দাতারাম চৌধুরী সড়কসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।
উপজেলার মেখল ইউপির পশ্চিম মেখল এলাকার বাসিন্দা সার্ভেয়ার মো. সাইফুল হক বলেন, এলাকার বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস’ায় মানবতার জীবন যাপন করছে। ঈদে আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যদিয়ে কাটাতে হবে।
উপজেলার গুমান মর্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, পৌরসভা এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট বা দোকানের ক্রেতা-বিক্রিতাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চল থেকে নৌকা করে উপজেলা সদরে মার্কেট ও হাট-বাজারে আসা যাওয়া করছে। এছাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের আনুমানিক ১৫/১৬টি ইউনিয়নের চাষ করা পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে স’ানীয়রা।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আক্তার উননেছা শিউলী বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।