হাজারখানেক চুরির হোতা রাজু গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মো. রাজু ওরফে পিচ্চি রাজু। বয়স (১৮)। বাবার নাম জয়নাল। গ্রামের বাড়ি ঢাকার বৈলপুর। বর্তমানে থাকে নগরীর কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পুলিশের দাবি, রাজু পেশাদার চোর। চার বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনে চট্টগ্রাম আসে। ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম কয়েকবার আসা যাওয়ায় নগরের পুরাতন রেলস্টেশনে ‘টোকাই’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এক সময় মা মারা যাওয়ার পর ভাসমান অবস্থায় রেলস্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে। যোগ দেয় বরিশাল কলোনীর মাদক সিন্ডিকেটের সাথে। গুপ্তচর বনে যায় বরিশাল কলোনির মাদক ব্যবসায়ী ফারুকের।
পরে এ ফারুক র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এর আগে তার বিশ্বস্থ হওয়ার সুবাদে মাদক বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে রাজুর। এক সময় সম্পর্ক গড়ে উঠে দুর্ধর্ষ পেশাদার চোর চক্রের সাথে। এক পর্যায়ে চুরিকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেয় রাজু।
সম্প্রতি ডবলমুরিং থানা এলাকায় এক প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত চুরির মামলায় গ্রেফতার হয় রাজু। পরে আদালতের আদেশে নগরের কোতোয়ালী থানার আরেকটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করে রাজুকে পুলিশ রিমান্ডে আনলে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে রাজু। পুলিশ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি নন্দনকানন এলাকায় কাদের হাইটসে ল্যাপটপ ও টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় নন্দনকানন জে সি গুহ রোড ইপিক কাদের হাইটস এর ৩য় তলায় সিস্টেম কন্ট্রোলের অফিস রুমের ভেতরে প্রবেশ করে রাজু। এ সময় ২টি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট দুই লাখ টাকার মালামাল চুরি করে চম্পট দেয় রাজু। আদালতে দেওয়া রাজুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মতে নগরের কদমতলী এলাকা থেকে চোরাই ল্যাপটপসমূহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে রাজু পুলিশ কর্মকর্তাদের জানায়, সে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি, অফিস, শো-রুম ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজারখানেক চুরির ঘটনার সাথে জড়িত।