হাইব্রিড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে শুল্কায়ন করতে হবে

DSC_0016

বারভিডার সহ-সভাপতি জাফর আহমেদবাংলাদেশের গাড়ির প্রায় সব চাহিদা মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও বাজেটে ব্যবসায়ীদের নানা দাবি থাকে। ২০১৬-১৭ বাজেটে এ খাতের উন্নয়নে প্রত্যাশা ও দাবি নিয়ে সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যাল ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সহ-সভাপতি জাফর আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাইব্রিড রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা যাচ্ছে না। তাই রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জন্য ভর্তুকি দিয়ে শুল্কায়ন করার করা প্রয়োজন। শুল্কায়ন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা এ ধরনের গাড়ি আমদানিতে উৎসাহ বোধ করছে না।’
আগামী অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ও সিসির স্তর পুনর্বিন্যাস, মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করলে এ খাতের জন্য ইতিবাচক হবে।’
রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ একটি গাড়ির যে মূল্য একই মডেলের হাইব্রিড ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ির মূল্য ২৫ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে শুল্কায়ন করলে রাজস্বের ওপর তা প্রভাব ফেলবে না। আমদানি বৃদ্ধির ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।’ জাফর আহমেদ বলেন, ‘হাইব্রিড গাড়ি যেহেতু পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি খরচ কম সেহেতু এ গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে যদি ব্যবসায়ীরা সুযোগ পায় তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যের যেমন উন্নতি হবে তেমনি পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। অন্যান্য গাড়ি যেসব এইচএস কোডের বিপরীতে আমদানি করা হয় সেই একইভাবে প্রচলিত শুল্কায়ন পদ্ধতির আওতায় আমদানি ও শুল্কায়ন হওয়া উচিৎ। উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকদেরকে হাইব্রিড ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ি কেনায় আর্থিক প্রণোদনা, কর রেয়াতসহ নানা সুবিধা প্রদান করা হয়। নতুন প্রজন্মের হাইব্রিড ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ির মূল্য প্রচলিত ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ির চেয়ে বেশি, জ্বালানি সাশ্রয় ও শতভাগ পরিবেশবান্ধব করতে গিয়ে মূল্যবান উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় এ শ্রেণির গাড়ি বেশি মূল্যেই বিক্রি করতে হয়। এক্ষেত্রে শুল্কায়নের এ সুযোগ দেয়া না হলে নতুন প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্পূরক শুল্কের কারণে মাইক্রোবাসের দাম বেড়ে গেছে। সম্পূরক শুল্কের কারণে এ গাড়ির দাম বেড়েছে ৪-৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গাড়ির চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ১০-১৪ আসনের মাইক্রোবাস আমদানির ওপর কখনো সম্পূরক শুল্ক ছিল না। অফিস ও কারখানার কর্মী পরিবহন, শিক্ষার্থী পরিবহন, রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে মাইক্রোবাস বেশি ব্যবহৃত হয়। আমরা এ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়েছি। এ ধরনের গাড়ির ওপর শুল্কায়ন প্রত্যাহার করা হলে একদিকে যেমন রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমবে তেমনি যানজটের মাত্রাও কমবে।’ উল্লেখ্য, বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বিভিন্ন প্রস্তাবনা দিয়েছে বারভিডা। এর মধ্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সিসি স্ল্যাব এবং সম্পূরক শুল্ক হার পুনর্বিন্যাস করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয় ১৫০০সিসির উপরের গাড়ি আমদানির ওপর একক চাপ হ্রাস পাবে এবং দাম কমবে। বর্তমানে ১৫০১ সিসি থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক ১০০ শতাংশ। গাড়ি ব্যবসায়ীরা সেটিকে হ্রাস করে ৬০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন