৫ম পৃষ্ঠার পর

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ স্মরণে

এই মতভেদ সত্ত্বেও হরপ্রসাদের আবিষ্কার ও সম্পাদনা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনত্তম নিদর্শনকে সকলের গোচরে এনেছে এবং বাংলা সাহিত্যের উদ্ভবকাল অন্তত পাঁচশ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। হরপ্রসাদ বিদ্যাপতির কীর্ত্তিলতা, মাণিক গাঙ্গুলীর ধর্ম্মমঙ্গল ও কাশীরাম দাসের আদিপর্ব মহাভারত সম্পাদনা করেন। তিনি আধুনিক ও আধুনিকপূর্ব বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ আমাদের উপহার দিয়েছেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তিনটি ঐতিহাসিক উপন্যাসের প্রণেতা : বাল্মীকির জয় (১৮৮১), কাঞ্চনমালা (১৯১৬) ও বেণের মেয়ে (১৯২৩)। তাঁর রচিত ভাবাশ্রিত প্রবন্ধগুলিও অত্যন্ত উপভোগ্য। তিনি অত্যন্ত সুললিত বাংলা লিখেছেন এবং তা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৯৩৮-৯৪) বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে। হরপ্রসাদ নিজেই লিখেছেন :
আমায় দেখিয়াই [বঙ্কিমচন্দ্র] বলিলেন, ‘তুমি এসেছ, বেশ হয়েছে। তুমি এমন বাঙ্গলা লিখিতে শিখিলে কি করিয়া?’ আমি বলিলাম, ‘আমি শ্রীযুক্ত শ্যামাচরণ গাঙ্গুলী মহাশয়ের চেলা।’ তিনি বলিলেন, ‘ও! তাই বটে! নহিলে সংস্কৃত কলেজ হইতে এমন বাঙ্গলা বাহির হইবে না।’
১১ চার মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র গবেষণা ও সাধারণপাঠ্য রচনার ক্ষেত্রও দূরবিস্তৃত। তবে আমরা প্রথমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলোচনায় তাঁর মৌলিক অবদানের কথা বলতে চাই।

বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে তাঁর চিন্তার প্রথম প্রকাশ ঘটে ‘ঙঁঃষরহবং ড়ভ ধহ ঐরংঃড়ৎরপধষ এৎধসসধৎ ড়ভ ঃযব ইবহমধষর খধহমঁধমব’ (ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ ঃযব উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ খবঃঃবৎং, টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঈধষপঁঃঃধ, ১৯২০) প্রবন্ধে। এর সঙ্গে তাঁর ‘গধমফযর চৎধশৎরঃ ধহফ ইবহমধষর’ (ওহফরধহ ঐরংঃড়ৎরপধষ ছঁধৎঃবৎষু, ঠড়ষ ১, হড় ৩, ঝবঢ়ঃবসনবৎ ১৯২৬) এবং ‘গঁহফধ অভভরহরঃরবং ড়ভ ইবহমধষর’ (চৎড়পববফরহমং ড়ভ ঃযব ঝরীঃয ঙৎরবহঃধষ ঈড়হভবৎবহপব, ১৯৩১) প্রবন্ধদুটির কথাও যোগ করা যেতে পারে। এসবেরই পরিণত রূপ পাওয়া যায় ‘অ ইৎরবভ ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব ইবহমধষর খধহমঁধমব’ (উধপপধ টহরাবৎংরঃু ঔড়ঁৎহধষ, ১৯৩২) এবং গ্রন’াকারে প্রকাশিত বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (ঢাকা : বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৯)। গ্রন’াকারে প্রকাশের আগে লেখাটি সাহিত্য পত্রিকায় (শীত, ১৩৬৫) মুদ্রিত হয় এবং আমি তার মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করি। শহীদুল্লাহ্ একদিন আমার হাতে ‘গঁহফধ অভভরহরঃরবং ড়ভ ইবহমধষর’ প্রবন্ধটি তুলে দিয়ে বললেন, ‘এটার বাংলা করে জায়গামতো বসিয়ে দিও।’ লেখাটির অনুবাদ শেষ করে আমি যখন তা তাঁকে দেখাতে চাইলাম, তিনি বলেন, ‘দরকার নেই, তোমার প্রতি আমার আস’া আছে।’ আমি একরকম জোর করেই তাঁর বাড়ি গিয়ে অনুবাদটা পড়তে থাকলাম, তিনি নিমীলিত-নয়নে অসহায়ের মতো শুনতে থাকলেন। হঠাৎ একসময়ে ত্রস্ত হয়ে বললেন, ‘এই জায়গাটা কেটে দাও, আমি ওই মত পালটে ফেলেছি।’ এরকম দুবার হলো। শেষে আমি বললাম, ‘দেখেছেন সার্, আপনি না শুনলে আপনার বর্জিত মত এতে চলে যেত।’ তিনি শিশুর মতো হেসে বললেন, ‘ভালো করেছ, তোমায় দোয়া করি।’ বাংলা ভাষা যে প্রাকৃত থেকে উৎপনড়ব হয়েছে, তা সর্ববাদিসম্মত। কিন’ কোন প্রাকৃত থেকে? জর্জ গ্রিয়ারসন ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাগধী প্রাকৃত থেকে। শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, মাগধী প্রাকৃত যে-অঞ্চলে প্রচলিত ছিল, তার পূর্বদিকের ভূখণ্ডে গৌড়ী প্রাকৃত চলিত ছিল। গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড় অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে ভাষা যেভাবে বিকাশ লাভ করে, তাতে মূল কাণ্ড থেকে সবার আগে মৈথিলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, রয়ে যায় ওড্র-বঙ্গ-কামরূপী শাখা। তার থেকে ওড়িয়া এবং আরো পরে অসমিয়া পৃথক হয়ে যায়, রয়ে যায় স্বতন্ত্র বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষায় বিদেশি ও অনার্য প্রভাবের বিষয়েও তিনি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন। বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল নিয়েও তাঁর নিজস্ব বক্তব্য আছে। অধিকাংশ পণ্ডিত দশম শতাব্দী থেকে বাংলার উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করেন। শহীদুল্লাহ্ সময়টা পিছিয়ে সপ্তম শতাব্দী ধরেছেন। তাঁর এই ধারণার পক্ষে তিনি সাক্ষ্য মেনেছেন চর্যাগীতির রচয়িতা সিদ্ধাদের প্রচলিত গুরু-শিষ্য পরম্পরা এবং সিলভাঁ লেভির খব ঘবঢ়ধষ গ্রনে’ বর্ণিত রাজাদের কালানুক্রম।
১০
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে শহীদুল্লাহ্ অজস্র প্রবন্ধ লিখেছেন। তারই কিছু কিছু সাজিয়ে দু খণ্ডে বাংলা সাহিত্যের কথা (ঢাকা : রেনেসাঁস প্রিন্টার্স, ১৯৫৩ ও ১৯৬৫) প্রকাশ করা হয় – কোনো খণ্ডই ধারাবাহিকভাবে লিখিত ইতিহাস নয়। এখানেও তাঁর মৌলিক বক্তব্যের পরিচয় পাই চর্যাগীতির উদ্ভবকাল ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্যনির্দেশে, বিদ্যাপতির কালনির্ণয়ে, কৃত্তিবাসের গৌড়েশ্বরের পরিচয়-উদঘাটনে এবং চণ্ডীদাস-সমস্যার যুক্তিপূর্ণ সমাধানে। তাঁর সম্পাদিত গ্রনে’র মধ্যে রয়েছে ইঁফফযরংঃ গুংঃরপ ঝড়হমং, বিদ্যাপতি-শতক এবং আলাওল-রচিত পদ্মাবতীর প্রথম খণ্ড। তিব্বতি অনুবাদ ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী-সম্পাদিত পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি বৌদ্ধগানের পাঠ সি’র করেছেন এবং আধুনিক বাংলায় তার রূপান্তর দেখিয়েছেন। যে- কোনো বিচারে বিদ্যাপতি-শতক প্রাচীন গ্রন’-সম্পাদনার আদর্শ দৃষ্টান্ত। এখানে তিনি বিদ্যাপতির কবিতার মৈথিলি সংস্করণ এবং বাঙালি বিদ্বানদের অবলম্বিত পাঠের তুলনামূলক বিচার করে বিদ্যাপতির কবিতার পাঠ নির্ণয় করেছেন। রবীন্দ্রনাথের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের কথায় এবং বিক্ষিপ্ত অনেক প্রবন্ধে তিনি লোকসাহিত্যের সাহিত্যিক গুণ ও সামাজিক মূল্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজে লোকসাহিত্যের নমুনা সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছেন এবং ছাত্রদের তা সংগ্রহ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানী [পরে বাংলাদেশের] আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (১৯৬৪-) শহীদুল্লাহ্র এক অমর কীর্তি। বাংলার আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে এমন মহৎ ও বৃহৎ কাজ আর হয়নি। ইতিহাসচর্চা ছিল শহীদুল্লাহ্র একটি প্রিয় বিষয়। প্রাচীন সিন্ধু-সভ্যতা, সিংহলে প্রথম আর্য- উপনিবেশ, প্রাচীন ভারতে গো-বধ, হৈহয় কুলের শার্য্যাত শাখা, বাংলার রাজা প্রথম গোপালদেব, ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণ – এমন অনেক বিষয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। ইসলাম-বিষয়ে যেসব প্রবন্ধ লিখেছেন, তা ঠিক গবেষণামূলক নয়, বরঞ্চ সাধারণ পাঠকের অবগতির জন্যে লেখা। এমন বেশ কিছু প্রবন্ধ ইসলাম-প্রসঙ্গ (১৯৫৩) গ্রনে’ সংকলিত হয়েছে। হিন্দুধর্ম সম্পর্কেও তিনি লিখেছেন, এবং খ্রিষ্টধর্ম-প্রসঙ্গে তাঁর একটি প্রবন্ধ আছে। আধুনিককালের সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলাম সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রকে তিনি দেখেছেন সাম্যবাদী হিসেবে আর অন্যদের মধ্যে সন্ধান করেছেন মরমিবাদ বা আধ্যাত্মিকতা। ইকবাল সম্পর্কে তাঁর একটি বই আছে। তিনি হাফিজ, উমর খৈয়াম ও ইকবালের কবিতা অনুবাদ করেছেন এবং প্রত্যেকটি বইয়ের ভূমিকায় কবি ও কাব্য সম্পর্কে মূল্যবান ভূমিকা সংযোজন করেছেন। তাঁর কাছ থেকে আমরা কুরআন শরিফেরও অংশবিশেষের অনুবাদ পেয়েছি।
১১
তিনি ছোটগল্প, কবিতা ও শিশুতোষ রচনাও উপহার দিয়েছেন। শহীদুল্লাহ্ গজদন্তমিনারবাসী বিদ্বান ছিলেন না। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসেই তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন সরকার আরবি ও রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নিলে বা প্রস্তাব করলে তিনি দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর জন্যে তাঁকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে, কিন’ তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপ করেননি। ১৯৫০ সালে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দিলে বিশিষ্ট নাগরিকেরা শান্তিস’াপনের যে-আহ্বান জানান, তার
খসড়াটি তাঁর রচনা। শহীদুল্লাহ্ সরল ও প্রকাশক্ষম গদ্য লিখতেন। তাতে তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতা প্রতিফলিত হতো।
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন :
ডক্টর শহীদুল্লাহ্ এ যুগের একজন শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী – তাঁহাকে আমরা একজন ‘যুগনায়ক বাঙ্গালী’ বলিয়া অভিবাদন করি। তিনি তাঁহার বাঙ্গালীত্বের মর্য্যাদা ভুলিয়া যান নাই।… …তিনি একজন সংস্কার-পূত চিত্তের মানুষ, এবং এইরূপ মানুষ-ই ঋঁষষ সধহ – “পূর্ণ মানব” অথবা “ইন্সান্-অল্-কামিল্” পদবীতে পহুঁছিবার পথে জয়-যাত্রা
করিবার যোগ্য। ১২ আমি এই বক্তৃতার সমাপ্তি টানতে চাই শহীদুল্লাহ্-সম্পাদিত বিদ্যাপতি-শতকের উৎসর্গপত্রটি উদধৃত করে : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের সর্বপ্রথম অধ্যক্ষ (১৯২১-২৪ খ্রীঃ অঃ) পিতামহপ্রতিম অশেষ শ্রদ্ধাভাজন সংস্কৃত ও বঙ্গবাণীর একনিষ্ঠ সাধক পুণ্যশ্লোক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের স্মরণোদ্দেশ্যে এই গ্রন’ সমর্পিত হইল।
১২
১. গ অ জধযরস, ঞযব ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব টহরাবৎংরঃু ড়ভ উধপপধ (উধপপধ :
টহরাবৎংরঃু ড়ভ উধপপধ, ১৯৮১), ঢ়ঢ় ৩০-৩১.
২. ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (দ্বি-স; কলিকাতা : “সাহিত্য-সাধকচরিতমালা”র
৭৩ সংখ্যক পুস্তক, বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ, ১৩৬৪), পৃ ১২।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চান্সেলর পি জে হার্টগকে লেখা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ৮-২-১৯২১
তারিখের পত্র। শিপ্রা রক্ষিতদস্তিদার, হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সাহিত্যকর্ম (প্রথম পুনর্মুদ্রণ; ঢাকা :
বাংলা একাডেমী, ২০০১), পৃ ১৫য় উদ্ধৃত।
৪. শিপ্রা রক্ষিতদস্তিদার, পৃ ১৫য় উদ্ধৃত।
৫. ঐ, পৃ ৫৬এ উদ্ধৃত।
৬. ঐ, পৃ ১৬।
৭. এখানে কালীপদ দাস ভুল করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অবসর নেন
১৯২৪ সালের ৩০ জুন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চান্সেলর পি জে হার্টগ। জি এইচ
ল্যাংলি তখন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ, তিনি ভাইস-চান্সেলর হন ১৯২৬ সালের
১ জানুয়ারিতে।
৮. শিপ্রা রক্ষিতদস্তিদার, পৃ ১৫-১৬য় উদ্ধৃত।
৯. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ‘প্রাচীন বাংলা সাহিত্য’, মুহম্মদ আবদুল হাই (সম্পাদিত), ভাষা ও
সাহিত্য সপ্তাহ ১৩৭০ (ঢাকা : বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩৭১), পৃ ২৯।
১০. ব্রজেন্দ্রনাথ, পৃ ২৪-৩৩।
১১. ঐ, পৃ ১৭-১৮য় উদ্ধৃত।
১২. “ভূমিকা”, আজহারউদ্দীন খান্, বাংলা সাহিত্যে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (কলিকাতা : জিজ্ঞাসা,
১৯৬৮), পৃ [১৩]।