হদিস না পাওয়া বৈধ অস্ত্রধারীর খোঁজে গোয়েন্দারা!

মোহাম্মদ রফিক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে র্যাব সর্তক অবস’ানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস’াটির মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশান-বনানী দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শনে গিয়ে র্যাব মহাপরিচালক এও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত রাখবে র্যাব। আমরা এটা কোন দিন বা সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অভিযান অব্যাহত রাখব। যাতে কোন প্রকার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না হয়। নির্বাচনের পরেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকার কথা বললেও বাসত্মবে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের হাতে কয়টি অবৈধ অস্ত্র আছে এর হিসেব জানা নেই কারো। অবশ্য মাঝেমধ্যে উদ্ধারও হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। র্যাবের শীর্ষ এ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এও বলেছেন, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধেও সতর্ক থাকবে র্যাব।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানায়, নগর ও জেলা এলাকায় লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে ৪ হাজার ৩৬২টি (গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যনত্ম) এরমধ্যে নগরে ২ হাজার ৫৭৭টি। জেলায় ১ হাজার ৭৮৫টি। এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে নগর পুলিশ সংশিস্নষ্ট কর্তৃপড়্গকে জানিয়েছে, নগরে উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক বৈধ অস্ত্রধারীর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যে নাম-ঠিকানার ভিত্তিতে সংশিস্নষ্টরা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন সেসব জায়গায় গিয়ে তাদের অনেকের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের আগ্নেয়াস্ত্র শাখায় জমা দেওয়া পুলিশের একটি তদনত্ম প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আগ্নেয়াস্ত্র শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে নগরে ২৯১টি এবং জেলায় ২৪৭টি অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যূ করা হয়েছে। আর নীতিমালা লঙ্ঘন করায় বাতিল হয়েছে ১৩৪টি অস্ত্রের লাইসেন্স। সিএমপির বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব বৈধ অস্ত্রধারীর নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের পর হদিস মিলছে না তাদের খোঁজে মাঠে কাজ করছে গোয়েন্দারা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন গতকাল রাতে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। ব্যক্তির নামে ইস্যূ করা অস্ত্র অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজেও ব্যবহার করা যাবে না। কিছুদিনের মধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করব। এতে বলা হবে-বৈধ অস্ত্রধারীরা তাদের অস্ত্র বহনের সময় অবশ্যই লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে।’ জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগর ও জেলা এলাকায় বৈধ অস্ত্রধারী কতজন আছে তার একটি তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সিএমপি’র বিশেষ শাখা। সম্প্রতি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারকারীর বিরম্নদ্ধে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নগর পুলিশ। এতে বলা হয়েছে, নগরে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও। দাগী সন্ত্রাসীদের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ভাড়া দিয়ে অর্থ আয় করছে একটি চক্র। একটি অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার সুবাদে একই ব্যক্তি একাধিক অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে নগরের বাকলিয়া ও লালখান বাজার এলাকায় সংঘটিত দুটি ঘটনায় বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের চিত্র পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি বাকলিয়া মাস্টারপুল এলাকায় বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী দিদারম্নল হক ওরফে কিরিচ বাবুলের সংঘর্ষ হয়। এসময় তার দুনলা বন্দুক দিয়ে গুলি করলে পাঁচজন আহত হন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেড়্গিতে গতবছর ৩১ মার্চ কিরিচ বাবুলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসন।
এর আগে ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল নগরের ওয়াসা মোড়ে হেফাজতে ইসলামের অবস’ান কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে বৈধ অস্ত্র শর্টগান দিয়ে হামলা চালায় লালখান বাজারের যুবলীগ ক্যাডার দিদারম্নল আলম মাসুম। এ ঘটনা নিয়ে পরের দিন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে তোলাপাড় সৃষ্টি হয় প্রশাসনে। কিন’ তার বিরম্নদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস’া নেয়নি পুলিশ প্রশাসন। নাম প্রকাশ না করে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ বছরে রাজনৈতিক সুপারিশে অনেকেই বৈধ অস্ত্রের মালিক হয়েছেন। তবে কারা এসব বৈধ অস্ত্রের মালিক, তার কোনও হালনাগাদ তথ্য সিএমপির কাছে নেই। এসব বৈধ অস্ত্র ও গুলি ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছেন ড়্গমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।