আগ্রাবাদ ডেবা হতে পারে ওয়াটার বেইজড বিনোদন কেন্দ্র

Untitled-1

নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে যে বিশাল এক দীঘি রয়েছে তা অনেকেই জানেন না। তবে সিএন্ডএফ টাওয়ার, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন কিংবা আগ্রাবাদের কোনো উঁচু ভবনে উঠলেই শুধু দেখতে পাওয়া যায় বিশাল এই জলাধার।
ব্রিটিশ আমলে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ১৪ একর জায়গায় গড়ে তোলা বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন বিশাল এ জলাধারটি যুগ যুগ ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এর চারপাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শতাধিক বস্তি। আর বস্তিবাসীদের ব্যবহার্য পানির উৎস এই ডেবা। ডেবার পাড়ে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের আইকন ভবন ওর্য়াল্ড ট্রেড সেন্টার। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহ মুহম্মদ আখতার উদ্দিন আগ্রাবাদ ডেবাকে কেন্দ্র করে নিয়েছিলেন ওয়াটার বেইজড বিনোদন প্রকল্প এবং এজন্য তিনি একটি ডিজাইনও প্রণয়ন করিয়েছিলেন। সেই ডিজাইনে ডেবাকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে পায়ে হাঁটার পথ তৈরি করা ছাড়াও একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার নির্মাণ করার কথা ছিল। সেই টাওয়ারের বিপরীত পাশে একটি বহুতল ভবন গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেবার চারপাশে পরিকল্পিত উন্নয়ন করারও কথা ছিল। নগরীতে আমেরিকার মতো টুইন টাওয়ার নির্মাণ করা না গেলেও ডেবার দুই পাড়ে দুটি বিশাল টাওয়ার নির্মাণের প্রস্তাবনা ছিল সেই ডিজাইনে। দুই টাওয়ারের একটি হবে পর্যবেক্ষন টাওয়ার ও অপরটি গ্র্যান্ডপ্লাজা। দীঘির দক্ষিণ-পূর্ব কর্নারে সুউচ্চ পর্যবেক্ষন টাওয়ার এবং উত্তর-পশ্চিম কোণে শেখমুজিব রোডের গা ঘেঁেষ নির্মাণ করা হবে বহুতল ভবন বিশিষ্ট গ্র্যান্ড প্লাজা। গ্র্যান্ডপ্লাজার বিভিন্ন ফ্লোরে দোকান, শোরুম, অডিটরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, রেষ্টুরেন্ট, কফিসপ ।
অপরদিকে পর্যবেক্ষন টাওয়ারটিতে অফিস, ছোটো দোকান, সেমিনার কক্ষ ও কফিসপ থাকবে। এর মাধ্যমে টাওয়ারের থেকে মানুষ পুরো শহরকে এক পলকে অবলোকন করার সুযোগ পাবে। টাওয়ারের একদিকে পাহাড় এবং অপরদিকে নদী ও সমুদ্র যেকোনো মানুষকে আকর্ষন করবে। তবে বর্তমানে এই ডেবায় প্রচুর সূর্যের আলো থাকায় এবং ডেবার চারপাশে হাঁটা-চলার রাস্তা থাকায় এখনো ব্যাপক হারে দখল হয়নি এই ডেবা। কিন্তু ডেবার চারপাশে বস্তি গড়ে উঠছে। এসব বস্তিবাসীর কারণে ডেবার পানির গুনগত মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে।