হজযাত্রী পরিবহন এবারও উড়োজাহাজ সংকটের আশঙ্কা

মোহাম্মদ রফিক

আগামী ১৪ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। কিন’ এখনও কাটেনি বাংলাদেশ বিমান-এর উড়োজাহাজ সংকট। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এ যাবত দুটি লিজের চুক্তি হয়েছে। ফলে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ কম থাকায়, আগামী জুলাই মাসে হজযাত্রী পরিবহনে সংকটের আশঙ্কা করছে হজ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন -হাব।
জানা গেছে, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে ফেরত গেছে বিমানের তিনটি উড়োজাহাজ। তবে নতুন করে ইজারা চুক্তি হওয়া কয়েকটি উড়োজাহাজ চলতি বছর বহরে যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত না হওয়ায় হজযাত্রী পরিবহনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানের নতুন রুটগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাকিল মেরাজ জানান, উড়োজাহাজ সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী ইজারায় আরও দুটি উড়োজাহাজ আনার চেষ্টা করছে বিমান। পাশাপাশি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে ইতোমধ্যে তিনটি উড়োজাহাজ সংগ্রহে ইজারার দরপত্র প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারক্রাফট, ক্রু, মেইনটেন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স (এসিএমআই) চুক্তির ভিত্তিতে এসব উড়োজাহাজ ইজারা নেওয়া হবে। চলতি বছরের আগস্ট ও নভেম্বরের মধ্যে দুটি বোয়িং-৭৮৭-৮ (ড্রিমলাইনার) উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বলেও জানান বিমানের এ কর্মকর্তা ।
সূত্র জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাব এর অব্যবস’াপনা, ভিসা জটিলতা, উড়োজাহাজ সংকটসহ নানা কারণে প্রতি বছরই হজ ফ্লাইট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় হজযাত্রীদের। গেল বছরে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিমান দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নিলেও লিজের উড়োজাহাজ পেতে দেরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
জানা গেছে, গেল বছর বিমানের বহরে ১৩টি উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে আছে ১১টি। এ অবস’ায় সুষ্ঠুভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষে এবার চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস’াটি। তবে দুটি উড়োজাহাজ লিজের চুক্তি হলেও বাকি দুটি পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বিমান।
হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তাসলিম জানান, উড়োজাহাজ সংকটের অবসান না হলে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য কোম্পানিকে সুযোগ দেয়া হবে। জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি এয়ারলাইন্স থেকে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও যথাসময়ে চুক্তি না করায় ভেস্তে গেছে সেই উদ্যোগ। এ অবস’ায় টেন্ডার না করেই মালয়েশিয়ার ফ্লাই গ্লোবাল থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান।
শাকিল মেরাজ জানান, এবার আসন খালি না থাকা নিশ্চিত করতে অগ্রিম ভাড়া নেয়াসহ বুকিং বাতিল করলে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান। হজযাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সুপারিশ রয়েছে বিমানের। সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের শুরুতে চীনের গুয়াংজু, শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বো ও মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন’ বহরে উড়োজাহাজ না থাকায় এসব রুটে ফ্লাইট সমপ্রসারণ বন্ধ রেখেছে বিমান।
জানা গেছে, এ বছর মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ পালনে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক বাংলাদেশ বিমান এবং বাকি যাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স। বিমান হজের আগে ১৫৫টি ও পরে ১৪৩টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ২টি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজ। ১৫টি আন্তর্জাতিক ও সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমান সূত্র জানায়, বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ আনা হয়।
এসব উড়োজাহাজের নামকরণ করা হয় ‘পালকি’, ‘আকাশ প্রদীপ’ ‘রাঙা প্রভাত’ ও ‘অরুণ আলো’। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনা হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ। এটির নামকরণ করা হয় ‘মেঘদূত’। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’।