সড়ক-মহাসড়ক হোক যানজটমুক্ত

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

যানজট এদেশে বড় একটি সমস্যা। দেশের ছোটবড় সব শহরেই যানজটের চিত্র দেখা যায়। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগানিত্ম দেখলে বড় কষ্ট লাগে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। অন্য শহরগুলোতেও যানজটের মাত্রা বাড়ছে। তাছাড়া, ফেরিঘাট সংলগ্ন সড়ক এবং ঈদের সময়গুলোতে দূরযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিন পেরিয়ে রাত মানুষকে গাড়িতেই কাটাতে হয়। নষ্ট হয় মানুষের মূল্যবান সময়।

নানা ব্যবস’া নেওয়ার পরও অসহনীয় এই যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। টিভি টকশো থেকে শুরম্ন করে বক্তৃতামঞ্চ পর্যনত্ম এই যানজট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও কাজের কাজটি হচ্ছে না। কমবেশি যানজট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকলেও আমাদের দেশের মতো এমন বিরক্তিকর ও সময় নষ্ট করার যানজট আছে বলে মনে হয় না।

বিভিন্ন কারণে এই যানজট হচ্ছে। সুনিপুণ ও সড়্গম ট্রাফিক ব্যবস’াপনার অভাবে মূলত যানজট কমছেনা। এর সাথে রয়েছে ট্রাফিক আইনের প্রতি মানুষের অসচেতনতা, রাসত্মার মাঝখানে উন্নয়ন কাজ, বেপরোয়া যানের বিশৃঙ্খলতা,সরম্ন ও খানাখন্দে ভরা সড়ক, রাসত্মায় গাড়ি নষ্ট হওয়া, স্টেশন ব্যতিরেকে রাসত্মার মাঝে গাড়ি দাঁড় করানো সহ অন্য আরো কারণে সড়কগুলোতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।

মানুষ প্রতিদিন নানা গুরম্নত্বপূর্ণ কাজে বাইরে বের হয়। অফিস-আদালত, শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাদের। কিন’ মারাত্মক এই যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে মানুষের সময়,নষ্ট হচ্ছে তাদের কর্মঘণ্টা। সঠিক সময়ে গনত্মব্যস’লে পৌঁছুতে না পারার কারণে কর্তৃপড়্গের কড়া কথা শোনার পাশাপাশি ড়্গতিগ্রসত্ম হতে হচ্ছে বিভিন্নভাবে।

দু:সহ এই যানজট থেকে মুক্তি পেতে সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে। উপযুক্ত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস’াপনার পাশাপাশি তা মেনে চলতে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দ্রম্নততম সময়ে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক ও স্টেশনসমূহকে প্রশসত্ম করতে হবে। বেপরোয়া ও লক্কর-ঝক্কর মার্কা যানবাহনের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নিতে হবে।

নিয়মভঙ্গ করে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেয়া যাবে না কোনোভাবেই। গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মানতে গাড়িচালকদের বাধ্য করতে হবে। না মানলে জরিমানা কিংবা শাসিত্মর ব্যবস’া রাখা উচিত। তবে কোনভাবেই অবৈধভাবে বা অন্যায়ভাবে অনৈতিক কোন কাজের জন্য গাড়িগুলোকে আটকানো যেন না হয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপড়্গের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সরকারকে ট্রাফিক ব্যবস’ার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা   কর্তৃপড়্গ গঠন করা উচিত।

সরকার অবশ্য যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি মেট্রোরেল চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। যদিও ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে সড়্গম হবে তা এই মুহুর্তে বলা কঠিন। নির্ধারিতস’ান ছাড়া গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ দেয়া সমীচীন হবে না। প্রয়োজনে ‘নিষিদ্ধ’ জায়গায় গাড়ি পার্কিং করলে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থদ- করা হোক। পার্কিং জোনেও বেশি সময় পার্কিং করলেও অর্থদ- দেওয়া যেতে পারে। তবে সরকারি ছুটির দিনে এসব শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। উন্নত দেশে এসব নিয়ম চালু রয়েছে। যানজট নিরসনে এই পদড়্গেপগুলো সহায়তা করতে পারে।

রিক্সার জন্য আলাদা পথ ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। রাসত্মার পাশে হকার-অধ্যুষিত ফুটপাত পর্যায়ক্রমে মুক্ত করতে পারলে অনেক নাগরিক রাসত্মা ছেড়ে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে তার আগে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বরাদ্দ করতে হবে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারের ড়্গেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে পারলে যানজট নিরসনে সহায়ক হবে। নগরীর রাসত্মাসমূহে কত গাড়ি চলতে পারে, তার সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে।

এরকম এবং আরো যা পদড়্গেপ নেওয়া যায় তা নেওয়া সম্ভব হলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্যস’ানে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পেতে পারে। মানুষের প্রয়োজনীয় কর্মঘণ্টা নষ্ট না হোক যানজটে। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো হোক যানজটমুক্ত।