সড়ক দুর্ঘটনা : মৃত্যুর মিছিল থামছে না

মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন দীপঙ্কর ঘোষ ধ্রম্নব আশেক উন নবী উল আলম

প্রতিদিন সংবাদপত্রে যে খবরটি অনিবার্য তা হলো সড়ক দুঘটনা। এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে বিভিন্নভাবে যানবাহনগুলোর মুখোমুখী সংঘর্ষে। এছাড়া গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, এমন কি পায়ে হেঁটে রাসত্মা পার হওয়ার সময়ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণগুলো হল: অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিং। পুলিশ রিপোর্টে বলা হয় অতিরিক্ত গতি ও চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
দেশের সর্বত্র অপ্রশসত্ম রাসত্মায় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ওভারলোড মানে ধারণ ড়্গমতার বেশি মাল বহন করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ আইন অমান্য করা। এক জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ চালক জেব্রা ক্রসিংয়ে অবস’ানরত পথচারীদের আমলই নেয় না। পাশাপাশি ৮৫ ভাগ পথচারী নিয়ম ভেঙে রাসত্মা পার হয়। দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলশ্রম্নতিতে যানবাহনে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার বছরে মৃত্যু হয় প্রায় ২১,০০০ জন। সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস’্য সংস’া। সংস’াটির তথ্য মতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ড়্গতি মোট অভ্যনত্মরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। একটি আনত্মর্জাতিক সংস’ার তথ্য মতে, বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের অবস’ান ১৩ তম। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, গত সাড়ে তিন বছরে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৫ হাজার ১২০ জন। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ২০ জন। এই সময়ে আহত হয়েছেন ৬২ হাজার ৪৮২ জন। এসব দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশ ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে সংঘটিত ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সংশিস্নষ্ট ছিল। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) দুর্ঘটনার কারণ সংক্রানত্ম পুলিশের তথ্য বিশেস্নষণ করে থাকে। গবেষণা বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই তরম্নণ ও কর্মড়্গম ব্যক্তি। এআরআইয়ের গত বছরের এক গবেষণায় বলা হয় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ড়্গয়ড়্গতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক তথ্য। সরকারের সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে সঠিক তথ্য নেই।
কারণ : ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন করা, বিরতিহীনভাবে যানবাহন চালানো, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদড়্গ চালক-হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা, সড়ক মহাসড়কে বেহাল দশা দুর্ঘটনার কারণ।
সুপারিশ: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে রোড সেইফপটি ইউনিট গঠন করে নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিকারের যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণ, প্রশিড়্গিত চালক গড়ে তোলার জন্য সরকারি খরচে চালক প্রশিড়্গণ কেন্দ্র চালু, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহণের ব্যবস’া করা, মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রম্নত গতির যানের জন্য আলাদা লেইনের ব্যবস’া করা, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধানেত্মর শতভাগ বাসত্মবায়ন, ভাঙা রাসত্মার সংস্কার করা, ফিটনেসহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুটপাত, আন্ডারপাস ওভারপাস তৈরি করে পথচারীদের যাতায়াতের ব্যবস’া করা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি জীব বা প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে, আমাদেরও মরতে হবে। কিন’, নিশ্চয় পথের বলি হয়ে কেউ মরতে চাই না। তাই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি যত জটিল সমস্যাই হোক না কেনো সকলের সামগ্রিক চেষ্টা ও আনত্মরিকতার মাধ্যমে এ থেকে রড়্গা পাওয়া তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’- এ সেস্নাগানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।