সড়কের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া ইউনিয়নের হাকিমনগর ঠান্ডাছড়ি-শিয়ালবুক্কা মুল সড়কের মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০ ফুট গভীরভাবে মাটি স্কেভেটর দিয়ে খনন করে কেটে নেয়াতে সড়কে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে মুল সড়কটি সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমনগর ঠান্ডাছড়ি-শিয়ালবুক্কা চলাচলের একমাত্র সড়ক। চৌকিদারপাড়া, বড়-য়াপাড়া, টেকনাফ পাড়া, শিয়ালবুক্কা পাড়াসহ পারুয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার মানুষ বসবাস করেন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে। কৃষক মো. বাবুল আকতার জানান, উৎপাদিত কৃষি পণ্য ঠান্ডাছড়ি-শিয়ালবুক্কা তিন কি:মি: সড়ক হয়ে রানীরহাট, সুগারমিল ও রাউজানে সরবরাহ করে থাকেন। মুল সড়কটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হলেও জমি ও ইটভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রামের লোকজন প্রশাসনের কাছে কোন অভিযোগ করতে পারছেনা। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মুল সড়কটি কেটে ফেলা হলেও স্ব-চোক্ষে দেখেও অসহায়। পাহাড়ি দূর্গম এলাকায় নিজস্ব কোন স্কুল নেই। প্রায় ২’শ ছাত্র-ছাত্রী তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের পাশে পারুয়া হাকিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে আসে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের আওতাধীন হাকিমনগরে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে গড়ে উঠা লাকী ব্রিকস ওয়ার্কস নামের ইটভাটায় ঠান্ডাছড়ি-শিয়ালবুক্কা মুল সড়কের ফসলি মাটি কেটে নেয়াতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন। হাকিমনগর গ্রামের কৃষক খায়ের আহমদ বলেন, জনৈক জাফরের কাছ থেকে ৪০ শতক জমি খাজনা নিয়ে শিম চাষ করছেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক মিয়ার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে এল.বি.ডব্লিউ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটি কাটার ফলে স’ানীয় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। জমির মালিক এনামুল হক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দেননি। ইটভাটায় যোগযোগ করা হলেও মালিকপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।