স্লোগানে মুখর আবুধাবি

কামরুল হাসান জনি, ইউএই

গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান ও সুপার ফোর এ ভারতের সঙ্গে মাশরাফি বাহিনীর পরপর দুটি হার কিছুটা ব্যাধিত করে প্রবাসী দর্শকদের হৃদয়। তবে গত রোববার সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে আবারও সতেজতা ফেরায় টাইগাররা। এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের দৃষ্টি ছিল দ্রুত দুবাইয়ে উড়ে আসা সৌম্য-ইমরুলের দিকে! ইমরুলও নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক তার মত নিজেদের অবস’ান ও সমর্থন প্রকাশে সক্ষম হয়েছে আরব আমিরাতের প্রবাসী দর্শকরা। গত রোববারও স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ‘আমার দেশ, তোমার দেশ : বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’, ‘মাশরাফি, মাশরাফি; বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’, ‘জাগোরে জাগো, বাংলাদেশ জাগো’- রক্তে শিহরণ ধরানো এসব স্লোগান ততক্ষণ চলতে থাকে, যতক্ষণ বল গড়াতে থাকে মাঠে। সেই সাথে লাল-সবুজের পতাকাও উড়তে থাকে মরুর উতপ্ত বাতাসে।
আগের ম্যাচগুলোতে দর্শকদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান থাকলেও এই ম্যাচে ভিন্নতা কেন, জানতে চাইলে স্লোগানের নেতৃত্ব দেয়া তরুণ সংগঠক আরশাদ নূর জানান, ‘মাঠে আমাদের প্রিয় টিম খেলছে অথচ তাদের শরীরে যেন ক্লান্তি ভর করা। এমন অবস’া দেখে দর্শকরাও উৎসাহহীন হয়ে পড়ছিল। দর্শকদের নতুন করে উদ্দীপনা দিতে, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে এমন স্লোগান ধরি।’
দুবাই থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আবুধাবি স্টেডিয়ামে খেলা
দেখতে যান আরশাদ নূর। তিনি আরো বলেন, ‘দুবাইয়ের স্টেডিয়াম থেকে আবুধাবি স্টেডিয়াম কিছুটা ভিন্ন। খোলা আকাশ, খোলা মাঠ। দর্শক কম ছিল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় তাদের বেমানান লাগছিল। সব মিলিয়ে সবাইকে খেলা চলাকালীন উজ্জীবিত রাখতে আমরা কয়েকজন স্লোগান দিতে শুরু করি।’
এর আগে এশিয়া কাপে আবুধাবি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচেও বিপুল পরিমাণ দর্শক সমাগম ছিল। সে তুলনায় গত রোববার দর্শক অনেকটা কম দেখা যায়। ভক্ত-সমর্থকদের দাবি, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস থাকায় লোক সমাগম কম হয়েছে। তবে দুটো হারের চোট যে প্রবাসী দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে তার বহিঃপ্রকাশও এটি।
অন্যদিকে আরব আমিরাতে একদিন খেলা দেখতে ন্যূনতম ২৫০-৩০০ দেরহাম খরচ হয় একজন সাধারণ দর্শকের। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৬০০ থেকে ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রতিটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে গেলে খরচের চিন্তাও করতে হচ্ছে তাদের। তবুও আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার ফোরের অন্য ম্যাচে আবারো দর্শক সমাগম হবে বলে আশাবাদী টাইগার্স সমর্থকরা।