স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার

খাড়া রয়েছিতো।
কবিতাটির প্রতি ছত্রে অসাধারণ আশা আর সাহসের ব্যঞ্জনাময়
উপসি’তি। কিন’ স্বাধীনতার চার দশক পরে যখন ‘চারকোটি পরিবার’ বা ‘জাগরী চারকোটি পরিবার’ বা ‘চারকোটি কারিগর’ সতের কোটিতে এসে ঠেকেছে-তখন দেখি ১৭টি পরিবার ও আর জাগরী নয়, নয় কারিগর। যে ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ‘স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকারে’ লাখো শহীদের রক্তের মূল্যে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন, সে ভাষাটির মর্যাদা এখন কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা নিয়ে ভাববার কেউ নেই। অনেককে মনে হয় বাংলায় কথা বলতে তাদের অস্বস্তি, বাংলা বুঝি ব্রাত্যজনের ভাষা। অনেক পিতামাতাকে বলতে শুনি তাদের সন্তান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশুনা করার কারণে বাংলা ভুলে গেছে (সর্বৈব মিথ্যা)। এ সকল পিতামাতা তাদের সন্তানের বাংলা বলতে না পারাটা গর্বের বিষয় ভাবেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও অনেক প্রতিষ্ঠানে কেবল ইংরেজি ভাষাতেই নামফলক, ঠিকানা ইত্যাদি লেখা হচ্ছে, যেন এসব প্রতিষ্ঠানে যারা আসেন তাদের মধ্যে বাংলাভাষী কেউ নেই। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় স্টেডিয়াম ঘিরে অনেকগুলো চমৎকার রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর দু’একটিতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা অক্ষরে ছোট করে নামফলক আছে, বাকিগুলোতে বাংলা অক্ষর নেই। যদি বলি অন্তত ইংরেজির পাশাপাশি হলেও বাংলা ব্যবহার না করা পর্যন্ত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমরা বর্জন করব, তাতে সাড়া দেয়ার লোক খুব বেশি পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
আমি ইংরেজি ভাষা (বা যে কোন বিদেশি ভাষ) এর বিরুদ্ধে নই, বরং চাই সবাই ভালো করে ইংরেজি ভাষা এবং প্রয়োজনে অন্য ভাষাও রপ্ত করুক, কেননা স্বদেশে-বিদেশে চাকুরি, ব্যবসার জন্য এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন’ তাই বলে মাতৃভাষাকে অবহেলা করা যাবে না। তা হবে পাপ।
আলাউদ্দিন আল আজাদ স্যারের ‘চার কোটি’ আজ ‘১৭ কোটি’, কিন’ খাড়া রয়েছেন ক’জন।