স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির ওপর জোর দিতে হবে বিজিএমইএ এর ১ম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু

B-G-M-E-A-vice-_presidant-M

গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি, ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের ওপর নজর দিতে হবে সরকারকে। সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর সাথে ২০১৬-১৭ বাজেটে পোশাক শিল্প খাতের উন্নয়নে প্রস্তাবনা ও ভাবনা নিয়ে আলাপকালে এসব কথা বলেন পোশাক প্রস’তকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু।
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি প্রধান যে তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর একটি পোশাক শিল্প খাত। এ খাতের উন্নয়নে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সকল কিছুর উন্নয়ন আবশ্যক। রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার পর দেশের পোশাক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় বিভিন্ন গার্মেন্টসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়াবে বললেও তা করেনি। মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে। ফলে ক্রেতাদের শর্ত ও চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে বেগ পেতে হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনেক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানকে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে। যেখানে ছোট থেকে মাঝারি আকারের একটি গার্মেন্টসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৫ কোটি টাকার বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।’
বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে যে হারে সুদ পরিশোধ করতে হয় তা পৃথিবীর কোথাও নেই। ব্যাংকের আমানতের ওপর সুদের হার কমালেও ঋণের ক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ কমানো হয়নি। এখনো অনেক ব্যাংক ১২-১৩.৭৫% পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। অধিক সুদের হারের কারণে গার্মেন্টস মালিকরা মূলধন সংগ্রহ করতে পারছেন না। পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছে এ হার ২-৩% এর মধ্যে আনার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। সরকার যদি সুদের এ হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে তবে পোশাক খাত দ্রুত উন্নতি লাভ করবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণখেলাপী গার্মেন্টস মালিকদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের ক্ষেত্রে বাধার কারণে তা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসছে না। যেখানে এ ঋণ পরিশোধের জন্য ৬-৮ বছর প্রয়োজন সেখানে দেয়া হচ্ছে ২-৩ বছর। এক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের সহজপ্রাপ্যতা ও সময় বৃদ্ধিকরণের জন্যও আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সময় বৃদ্ধি করা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণখেলাপী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ফলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হওয়ার শংকা তৈরি হবে।’
মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু আরো বলেন, ‘সোর্স ট্যাক্স ০.৬০% থেকে কমিয়ে ০.৩০% ও করপোরেট ট্যাক্স ০.৩৫ থেকে কমিয়ে ০.১৫% এ আনার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি রাজস্ব বোর্ডের কাছে। এ প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে গার্মেন্টস শিল্প আরো উন্নতির দিকে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও বন্টন ব্যবস’ার কারণে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়মিত ৩-৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও তা আরো বেশি। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার ফলে গার্মেন্টসের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মেরামত, সংযোজন ও পরিবর্তনের জন্য গার্মেন্টস মালিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস সংকট দেশের একটি জাতীয় সমস্যা। যেখানে বাংলাদেশ পোশাক খাতে রপ্তানির পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে নজর দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংকের সুদের হার হ্রাস, ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ঘটবে সেই সাথে হবে দেশের উন্নয়ন। পোশাক শিল্পের উন্নয়নের সাথে সাথে একদিকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, দেশে কর্মসংস’ানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিও গতি পাবে।’
বিজিএমইএ’র এ নেতা বলেন, ‘পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার পলিসি সাপোর্ট দেয়ার পাশাপাশি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে যেসব প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর নজর দিতে হবে।’
দেশের অর্থনীতির বিরাট একটি অংশ পোশাক খাত তাই এ খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু।

আপনার মন্তব্য লিখুন