ক্ষমতায় আবার আওয়ামী লীগ

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আশাবাদী রোহিঙ্গারা

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ফলে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক টানাপোড়ন ও মিয়ানমারের অনীহার কারণে দীর্ঘদিন পরে হলেও স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এবার দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে যা যা করতে হয় তাই করবেন বলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস। মঙ্গলবার কুতুপালং বস্তি ও রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন সাধারণ রোহিঙ্গা, মাঝি ও হেডমাঝির প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তারা এসব কথা বলেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে ২৯টি সেনা ক্যাম্পে সেদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসার হামলায় বেশ কয়েকজন মিয়ানমার সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গা নারী পুরুষ, শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করে তাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সে সময় প্রাণ বাঁচাতে এদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয় প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে এসব রোহিঙ্গার ভরণ-পোষণ, আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস’ান ও চিকিৎসার ব্যবস’া করেন। পাশাপাশি এসব রোহিঙ্গার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ব নেতাদের মাঝে জনমত সৃষ্টি করেন। যেকারণে চাপের মুখে পড়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সাময়িক স’গিত করলেও রোহিঙ্গারা তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ছিল দৃঢ় বিশ্বাসী। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হলে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় পরবর্তী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডি ব্লকের বাসিন্দা শফি আলম (২২), এনায়েত আলী (২৫) ও মো. শফি (১৯) জানান, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় হওয়ায় রোহিঙ্গারা খুশি। কেননা শেখ হাসিনা ফের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এবার দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কাজ করবেন। রোহিঙ্গা বস্তির নেতা মো. নুর জানান, তারা ২০১২ সালে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প এলাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তার জানামতে এদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক ঘোলাটে পরিবেশের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন এবং তিনি সফলকাম হয়েছেন দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসাতে রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা বলছে এখানে যতই সুখে দিন কাটুক না কেন তারা পরবাসে জীবন যাপন করতে মোটেও রাজি নয়। ১৯৯২ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসাতে রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা পুর্ণ নাগরিকত্ব নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে পুর্ণ আশাবাদী হয়েছেন। এবার নির্বাচনে বিজয় লাভে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কাজ করবেন বলে আশাবাদী।
এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুনরায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। রাষ্ট্রীয় আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।